জাতীয় নাট্যশালায় ‘নীলাখ্যান’ প্রদর্শনী আজ সন্ধ্যায়

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:৫৪
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে আজ সোমবার সন্ধ্যায় মঞ্চায়িত হবে নাটক ‘নীলাখ্যান’। কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাপুড়ে’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই মঞ্চ নাটকটি।
 
মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের এই প্রযোজনায় শব্দ-সুরের শক্তিতে প্রেম আর মানুষের অসহায়ত্বের কথা বলার জন্যই অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অনেকটা গীতলভাবে তাদের প্রকাশ করে, যা নাটকের চরিত্রগুলোকে শুদ্ধ চরিত্রাভিনয় থেকে বর্ণনাত্মক চরিত্রাভিনয়ে প্রকাশ করে। এ অভিনয়রীতি ঢাকাই মঞ্চের নবতর প্রয়াস, যা মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় নীলাখ্যানের মাধ্যমে প্রয়োগ করেছেন।
 
নাটকটিতে দেখা যায়, বেদে সর্দার জহর সাধনা করে বিষ জয় করে। তবে দেবী মনসা তার জন্য কাম নিষিদ্ধ করে দেয়। তার ভাষ্যে-আভাসে প্রত্যাখ্যাত ভালোবাসার মানুষ বিন্তী রাণী আত্মহত্যা করে আড়ালি বিলের রাশি রাশি সাদা শাপলার বনে। বেদে বহরে বেড়ে ওঠা সাপে কাটা বালিকা চন্দনের চুলে বিন্তীর সুরভী পায় জহর। বালিকা বেড়ে উঠছিল বালকের বেশে। যাকে সন্তান জ্ঞান করেছিল, ঋতুমতী হয়ে ওঠার পর তার প্রতিই প্রবল আসক্তি অনুভব করে জহর। বেদে দলে তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বিচিত্রমুখি সঙ্কট। চন্দনের যুবা সাজে তাকে প্রেম নিবেদন করে মৌটুসী আর চন্দন ঠোঁটে মালতী ফুলের লাল ডালে ঝুমরোর সামনে দাঁড়ায়। বেদেদের উত্সবে চন্দনের নারীত্ব উন্মোচিত হয়। যাকে বাবার মতো মনে করেছিল, তাকে পতি মেনে নিতে পারে না চন্দন। এভাবেই নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে মানব হূদয়ের গভীর এক আখ্যান এগিয়ে যায়।
 
‘নীলাখ্যান’ নাটকটি রচনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আনন জামান এবং নির্দেশনা দিয়েছেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক।
 
ইত্তেফাক/রেজা