ঠাকুরগাঁওয়ে শিশু রোগীদের খোলা আকাশের নিচে চিকিৎসা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:২৬

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে সিট না পেয়ে সিভিল সার্জনের অফিস চত্বরে ঘাসের ওপর বসে সন্তানের চিকিৎসা করাচ্ছেন ফারাজুল ইসলাম। হরিপুর উপজেলার বকু্য়া ইউনিয়ন থেকে। গত দুইদিন আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া শিশু সন্তানকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন তিনি। এখন খাওয়া থেকে শুধু করে শিশুর ঘুমানো পর্যন্ত সবই ঘাসের ওপর চলছে তার পরিবারের।
IMG0
ফারাজুল ইসলাম ছাড়াও আরও প্রায় ২০-২৫ জন অভিভাবক তাদর অসুস্থ শিশুদের  শিশু ওয়ার্ডে বাইরে রেখে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ফারাজুল ইসলাম জানান, দিনের বেলা বাইরে ঘাসের মধ্যে সন্তানের চিকিৎসা দেওয়াচ্ছি, আর রাতের বেলায় শীত পড়ায় কোন মতে ওয়ার্ডের ভেতরে ঠাঁই নিতে হচ্ছে। এতে করে আমার ছেলেটি আরো অসুস্খ হয়ে পড়ছে।
IMG1
ঠাকুরগাঁও হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২শ'৪৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের ইনডোরে চিকিৎসা নিয়েছেন আরো দেড় শতাধিক। শিশু ওয়ার্ড ছেড়ে গিয়েছেন ৫৫ জন। হঠাৎ দিনের বেলা গরম রাতে ঠান্ডা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সিট না থাকায় চিকিৎসা প্রদান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
IMG2
পঞ্চগড় জেলা আটোয়ারি উপজেলা থেকে আসা শ্রী মতি রানী জানান, কয়েকদিন ধরে আমার ৬ মাসের শিশুটির ঠাণ্ডা লেগেছে। পরবর্তীতে ডাক্তারের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। সিট না পাওয়ায় মেঝেতেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

রোগী দেখতে আসা সদর উপজেলা গড়েয়ার এলাকার লাল মিয়া জানান, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে শিশু ওয়ার্ডের বিছানার সংকট। বেশির ভাগ সময় শিশু ওয়ার্ড পরিপূর্ণ থাকে। তাই নার্সেরাও সঠিক সেবা দিতে পারেন না।

ঠাকুরগাঁওয়ে একটি সরকারি শিশু হাসপাতাল গড়ে তুললে আশে পাশের ৩টি জেলার মানুষের খুবই উপকার হতো বলে ওই অভিভাবক জানান।
IMG3
শিশু ওয়ার্ডের নার্স সাবিনা জানান, গত তিন ধরে যে রোগীর চাপে সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছি। প্রতিদিন হাসপাতালে শিশু রোগীর ভর্তি হচ্ছে প্রচুর।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সিভিস সার্জন ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা: শাহাজাহান নেওয়াজ জানান, আবহাওয়া পরিবর্তের জন্য ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগের বৃদ্ধি পেয়েছে। সঠিক ভাবে সেবা ও নিয়ম মনে চলেই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠা সম্ভব বলে তিনি জানান।

শিশু ওয়ার্ডের আসন সংখ্যার বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশে পাশের ৩টি জেলার মানু্ষ এখানে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে সিটের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালে ১০ তলা বিল্ডিং এর কাজ চলছে। কাজ সম্পূর্ন হলেই হাসপাতালের বাইরে বা মেঝেতে কাউকে চিকিৎসা নিতে হবে না বলে এই ডাক্তার জানান।

ইত্তেফাক/নূহু