‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় দেশি-বিদেশি পাঁচ জঙ্গিসংগঠন সম্পৃক্ত’

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:১১
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত গ্রেনেড হামলায় দেশি-বিদেশি পাচঁটি জঙ্গি সংগঠন সম্পৃক্ত ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান আজ বুধবার অষ্টম দিনের মতো যুক্তিতর্ক শুনানিতে এ তথ্য তুলে করেন। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামী ১৩ নভেম্বর সোমবার পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে।
 
রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। আদালত এক আদেশে বলেন, আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ নভেম্বর মামলার কার্যক্রম ধারাবাহিক ভাবে চলবে।
 
যুক্তিতর্কে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ওই নৃশংস হামলায় দেশি-বিদেশি পাচঁটি জঙ্গি সংগঠন জড়িত। সংগঠনগুলো হচ্ছে- হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ, কাশ্মিরী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদী, তেহরিক জিহাদ-ই ইসলাম, লস্করই তৈয়বা এবং মিয়ানমার আরাকানের সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)।
 
তিনি বলেন, এসব জঙ্গি সংগঠনসহ পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা-আইএসআই, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ভয়াবহ নৃশংস ও বর্বরোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সম্পৃক্ত ছিল। তৎকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডিজিএফআই, এনএসআই ও বাংলাদেশ পুলিশকে ওই ঘটনা বাস্তবায়নে ব্যবহার করেছে।
 
সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, জড়িত থাকার দোষ স্বীকার করে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ১২ জন আসামি ১৩টি জবানবন্দি পেশ করেছেন। আসামিদের মধ্যে জঙ্গি মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সি দুটি জবানবন্দি পেশ করেন। তার জবানবন্দির অংশ বিশেষ তুলে ধরেন তিনি। মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে স্পষ্ট হয়েছে- ওই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনকে হত্যা করা। এ ঘটনার পরিকল্পনা ও বাস্তাবায়নে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং জড়িতদের নাম তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। এখানে বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়াসহ কারা কারা সম্পৃক্ত মুফতি হান্নান জবানবন্দিতে তার উল্লেখ করেছেন।
 
প্রধান কোসুঁলি বলেন, আসামির জবানবন্দিকে সমর্থন করে রাষ্ট্রপক্ষের আটজন সাক্ষি সাক্ষ্য দেন। সাক্ষিদের মধ্যে রয়েছেন- মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমি, মেজর (অব.) আতিকুর রহমান, মাওলানা মোসাদ্দেক, আবদুল আজিজ সরকার, মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিরুল ইসলাম।
 
ইত্তেফাক/এমআই