‘প্রমোশনের কারণে অনেক ভালো ছবি প্রশংসার আড়ালে চলে যায়’

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৪১
 
ফজলুর রহমান বাবু। প্রতিনিয়ত নিত্য-নতুন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করে শুধু দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেননি, সাধারণ মানুষের কাছে পেয়েছেন অকুণ্ঠ ভালোবাসা। এমনকি ভিন্ন ভিন্ন সব চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হূদয়ে আলাদাভাবে ঠাঁই করে নিয়েছেন এই গুণী অভিনেতা। চলচ্চিত্রের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নুরুল করিম
 
১ ডিসেম্বর আপনার অভিনীত ‘হালদা’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাচ্ছে। চলচ্চিত্রটিতে আপনার চরিত্র প্রসঙ্গে বলুন—
হালদা একটি নদীর নাম। নদীকে ঘিরেই এই সিনেমা। দেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক মত্স্য প্রজনন কেন্দ্র এই হালদা নদী। মা মাছেরা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথিতে এখানে ডিম ছাড়ে। এই নদী, নদীর গতি-প্রকৃতি, নদীর ক্ষয়, নদী তীরবর্তী মানুষের জীবনপ্রবাহ ও জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে গল্পে। আর এই গল্পটিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে। আমি ওই বাড়ির কর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছি। ছবিটিতে দেখা যাবে তিশা আমার মেয়ে।
 
আপনি যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার জন্য আলাদা কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল কি-না?
একটা নতুন চরিত্রে অভিনয় করার আগে সেটাকে আগে নিজের মধ্যে ধারণ করে নিই। শুটিংয়ের কস্টিউম থেকে শুরু করে স্ক্রিপ্ট, ডায়লগ, অভিনয়ের সাবটেক্সটগুলো নিয়ে চিন্তা করি। তবে হালদা ছবিতে দুটো প্রিপারেশন নেওয়ার দরকার ছিল। যে চরিত্রে অভিনয় করেছি সেই ধরনের মানুষদের বোঝার চেষ্টা করেছি আমি। জেলেদের জীবনের সংগ্রামটুকু নিজের মধ্যে ধারণ করেছি। যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল সেটা হচ্ছে ছবিতে চট্রগ্রামের ভাষায় কথা বলেছি। আর এটা তো আমার নিজের ভাষা না। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের কাছে যেন মনে না হয় এটি একটি ফানি ভাষা। হ্যাঁ, একটি ফিকশনের মধ্য হাসি-আনন্দ সব থাকবে। ভাষার জায়গাটাতে আমি সবসময় কেয়ারফুল ছিলাম।
 
চলচ্চিত্রটিতে চট্রগ্রামের ভাষা ব্যবহার করার কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষদের বুঝতে কোনো সমস্যা হবে না?
ছবিটিতে হালদা নদীর গল্প বলেছি। আর সেটা চট্রগ্রামে অবস্থিত। তাই চট্রগ্রামের ভাষা ব্যবহার করেছি। এটা না বললে পারতাম। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে বলেছি। আমরা জটিল শব্দগুলোতে একটু ত্যাগ করার চেষ্টা করেছি। তবে আশা করি, কারও বুঝতে সমস্যা হবে না।
 
অজ্ঞাতনামা দর্শকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসনীয় হলেও বাণিজ্যিকভাবে অতটা সফল নয়। এর কারণ কী?
প্রচার স্বল্পতার কারণে সেটা সব দর্শকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ছবিটির তেমন একটা প্রমোশন বাজেট ছিল না বা প্রযোজকরাও প্রচারের জন্য খুব একটা খরচ করতে চান না। তবে ছবিটির নাম মানুষের মুখে মুখে ছিল। মানুষ ইউটিউবে বারবার দেখেছে এটি। একটা ভালো কাজ যেখানে গিয়ে দেখার কথা সেখানে না দেখলে খারাপ লাগে। ভুল থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়। প্রমোশনের কারণে অনেক ভালো ছবি প্রশংসার আড়ালে চলে যায়। তবে আমরা পুরো টিম মিলে ‘হালদা’ চলচ্চিত্রটির প্রচারণা আরও ভালোভাবে করবো।
 
অন্যান্য চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে বলুন—
বদরুল আনাম সৌদের ‘গহীন বালুচর’ও ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে। এরমধ্যে ‘গহীন বালুচর’ ছবিটিতে গানও গেয়েছি আমি। ছবিটি নিয়েও বেশ আশাবাদী। এছাড়া ‘পোড়ামন ২’ ছবিতেও আমি কাজ করছি।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর