গুপ্তধনের কথা উঠলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে দুর্লভ রত্ন পাথর, হীরা কিংবা সোনার মোহরের সম্ভার। গুপ্তধনের জন্য মরিয়া অনেকেই চষে বেড়ান পৃথিবীর নানা প্রান্ত। কেউ সেই গুপ্তধন পান, কেউ বা পান না। আবার না চাইতেও কখনো কখনো মিলে যায় গুপ্তধন। সাগরতলে এমনই একটি গুপ্তধনের খোঁজ মিলেছিল ইসরায়েলে। ২০১৫ সালে জাভিকা ফায়ের নামের একজন স্কুভা ডাইভার সাগর তলে ঘুরে বেড়ানোর সময় আবিষ্কার করেন সত্যিকারের সোনার মোহরের ভাণ্ডার!
ইসরায়েলের উপকূলে রয়েছে এমন কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা যেখানে চাইলে যে কোনো স্কুভা ডাইভার অনুসন্ধান চালাতে পারেন। ভূমধ্যসাগরের উপকূলে সিয়েসারিয়া এমনই একটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা। ডুবে যাওয়া জাহাজের ভাঙা অংশ নিয়ে অনুসন্ধান করাটাই জাভিকা ফায়েরের কাজ। সাগর তুলে ঘুরে বেড়ানোর সময় একদিন তার চোখ আটকে যায়। পানির নিচে চকচক করে ওঠা একটা বস্তু পেয়ে প্রথমে ভেবেছিলেন এটি হয়ত কোনো চকলেট ফয়েল। তারপরও কৌতূহল নিয়ে সেটিকে তুলে আনেন পানির উপরে। বালু ঘেঁটে তুলে আনা সেই কয়েনটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারেন সেটি আসলে সত্যিকারের একটি সোনার মোহর। মোহরটির উভয় পাশে লেখা ছিল আরবিতে। এরপর আবারো তিনি সেখানে অনুসন্ধান চালাতে নামেন। এবারো খুঁজে পান আরো কিছু মোহর। এরপর লেখা হয় নতুন ইতিহাস।IMG0
জাভিকা এবং তার অনুসন্ধানকারী দলটি তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করেন সিসেসারিয়ায় প্রশাসনের সঙ্গে। স্থানীয় প্রশাসন খবর দেন ইসরায়েলের প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরকে। খবর পেয়ে প্রথমে তাদের কথা বিশ্বাস করতে চায়নি প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। দলটি ঘটনাস্থলে এসেও পুরোপুরি তাদের কথা বিশ্বাস করতে পারছিল না। এরপর একের পর এক আরো সোনার মোহর তুলে আনার পর এই এলাকাটিকে ঘোষণা দেওয়া হয় সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা হিসেবে। এখানে আরো অনেক ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনায় এটিকে বিশেষভাবে সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয় প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি সোনার মোহর উদ্ধার করা হয়েছে। এই মোহরগুলো ২৪ ক্যারেটের সোনায় নির্মিত। ৯৫ শতাংশ সোনা রয়েছে মোহরগুলোতে। ভূমধ্যসাগরের পানির নিচে এগুলো এক হাজার বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকলেও সেগুলোর বিশুদ্ধতায় কোনো ধরনের ঘাটতি দেখা যায়নি।
তেল আবিব এবং হাইফার মধ্যবর্তী ভূমধ্যসাগরের এই এলাকাটি এক সময় রোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। ঐতিহাসিক এই এলাকাটিকে আধুনিক পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে রয়েছে মিউজিয়াম এবং অত্যাধুনিক বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট। রয়েছে গলফ কোর্সও।-বিবিসি
ইত্তেফাক/এমআর
