পাঠক তৈরির কারিগর ছিলেন কথার জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ তার পাঠক। তিনি এখন বেঁচে নেই কিন্তু এখনও লাখো পাঠক তার জন্য কাঁদেন। এটাই একজন কথাশিল্পীর পরম পাওয়া। বাংলা সাহিত্য যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।
নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। আগামী ১৩ নভেম্বর তার ৬৯তম জন্মবার্ষিকী। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। হুমায়ূন আহমেদের জীবন ও কাজ নিয়ে আলোচনা করেন লেখক-পত্নী মেহের আফরোজ শাওন, অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী বারী সিদ্দিকী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম-কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। সঞ্চালনা করেন জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কীপার ড. শিহাব শাহরিয়ার।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ দেশের মাটিকে ভালোবেসেছিলেন বলেই আজ তার অনেক গুণগ্রাহী। তিনি দেশের মানুষকে প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছেন। সৃজনশীল কর্ম দিয়ে মানুষের খুব কাছে গিয়েছেন। কী নাটকে, কী উপন্যাসে, কী চলচ্চিত্রে—সবখানেই ছিল তার প্রচারণা। সর্বক্ষেত্রে উচ্চারিত হয়েছে তার কর্মের জয়-জয়কার।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য হূদয়ে কলম চুবিয়ে লিখতেন বলেই তিনি আজ আমার-আপনার সবার প্রিয় লেখক হতে পেরেছেন। অন্য সবার মতো সংকীর্ণতায় গা ভাসিয়ে দেননি।’
মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘তাকে নিয়ে অনেক বলার আছে। তবে আজকের অতিথিরা তাকে নিয়ে যা বললেন, তা কম কিছু নয়। হুমায়ূন আহমেদ আছেন, থাকবেন।’ মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ কেবল সাহিত্য সৃষ্টি করেননি, পাঠকও সৃষ্টি করেছেন। কথক হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের তুলনা হয় না। তিনি সম্মোহিত করে রেখেছিলেন।’
ইত্তেফাক/আনিসুর
