টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার বাঁশী গ্রামের কমপক্ষে ৩০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে এলেঙ্গা বাজারের পশ্চিমাঞ্চল, ব্রিজ ও অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি। অপরিকল্পিত নদী খনন ও অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা। ভাঙনরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলেঙ্গা পৌরসভার বাঁশী ও চরবাঁশী এলাকার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদীর শাখা লৌহজং নদী। নদীর পূর্ব-পশ্চিম পাশের অর্ধ-শতাধিক ঘরবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বাজারের পশ্চিম পাশের নদী সংলগ্ন কয়েকটি দোকান এবং এলেঙ্গা থেকে পশ্চিমাঞ্চলে যাবার একমাত্র ব্রিজটিও রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে।
জানা যায়, বাঁশী গ্রামের শামসুল আলম, নিয়াদ আলী, ছবুর আলী, ডা. আনন্দ মোহন দাস, গৌর দাস, মজিদ মিয়া, আয়নাল মিয়া এবং চরবাঁশী গ্রামের আইয়ুব আলী, মহর আলী, ফারুক, মজিদ, রাসেল মিয়ার বাড়িঘর ইতিমধ্যেই অর্ধেক কিংবা সম্পূর্ণ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের শিকার অনেকেই আত্মীয়-স্বজন ও ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। নদীভাঙণে এলাকার বেশকিছু স্থাপনাও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অসহায় মানুষগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাংলা ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। নদীর তীব্র স্রোত ও টানা প্রবল বৃষ্টিতে এই ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
ইত্তেফাক/এএম।
