মা-ছেলেকে খুনের দায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের তৃতীয় আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবু তাহের আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আমলাব-শাহাপাড়া গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম ও জুয়েল ভুঁইয়া।
জানা যায়, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বেতাগিয়া গ্রামের আয়েফ আলীর মেয়ে দিপালীর কাছ থেকে টাকা ধার নেন আসামিরা। পরে টাকা ফেরত চাইলে তারা টালবাহানা করতে থাকেন। ২০০৯ সালের ২ আগস্ট অভিযুক্তরা দিপালীকে টাকা ফেরত দিতে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের মাজারে আসতে বলেন। দিপালী তার পাঁচ বছরের ছেলে বশিরকে নিয়ে মাজারে যান। পরে মিথ্যা কথা বলে তাদের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যান আসামিরা। নদের পাড়ে তাদের খুন করা হয়। পরে উভয়ের লাশ সেখানে রেখে ঘাতকরা পালিয়ে যান। ওইদিনই বিকালে পুলিশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর র্যাব মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। র্যাব ঘটনার দশদিন পর নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার এবং পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেয়া তথ্যমতে র্যাব পরে জুয়েল ভুঁইয়াকে আটক করে। তদন্ত শেষে দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এপিপি আব্দুস ছালাম এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট অনামিকা রেজা রোজী ও অ্যাডভোকেট রাসেদুজ্জামান এনাম।
ইত্তেফাক/আরকেজি
