গ্যাস সংকটে আশুগঞ্জ সার কারখানা সাত মাস যাবত্ বন্ধ

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৭, ০২:০৭

গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় সাত মাস যাবত্ বন্ধ রয়েছে আশুগঞ্জ সার কারখানা। এতে মরিচা ধরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কারখানার যন্ত্রাংশ। বিদেশ থেকে সার আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে লাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে দ্রুত গ্যাস সরবরাহের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা। তারা বৃহস্পতিবার সকালে কারখানার প্রধান গেটের সামনে মানববন্ধন করেছেন।

কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচির মধ্যে শনিবার রয়েছে প্রধান গেট অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কারখানার গ্যাস সরবরাহ দেওয়া না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে গ্যাস সংকটের কারণে সাত মাস কারখানা বন্ধ থাকায় প্রায় আড়াই লাখ টন ইউরিয়া সার উত্পাদন ব্যাহত হয়েছে।

কারখানার কারিগরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চলতি বছরের গত ১৯ এপ্রিল আশুগঞ্জ সার কারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। স্বাভাবিক নিয়মে কারখানার সার উত্পাদনও বন্ধ হয়ে যায়। গত সাত মাস কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ১২শ টন উত্পাদন ক্ষমতা হিসেবে প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা মূল্যের আড়াই লাখ টন সার উত্পাদন ব্যাহত হয়েছে।

কারখানার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এটিএম বাকী জানান, সরকারি সিদ্ধান্তে গত ১৯ এপ্রিল থেকে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এখনো গ্যাস সরবরাহ দেওয়ার ব্যাপারে কোনো চিঠি পাইনি। এ নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে। গ্যাস সরবরাহের দাবিতে চলতি মাস থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা ধারাবাহিক আন্দোলন করছে। এতে কারখানার পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এছাড়া বর্তমানে গুদামে আমদানি করা সারসহ ২৪ হাজার টন সার মজুদ আছে। বিসিআইসি’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বোরো মৌসুমে সারের চাহিদার বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সুতরাং, সার সংকটের কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।


ইত্তেফাক/নূহু