সুজানগরে অপহরণের প্রায় ২ মাস পর শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:০৪
পাবনার সুজানগর থানা পুলিশ অপহরণের এক মাস ২৭দিন পর রবিউল ইসলাম (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে। সে উপজেলার উলাট গ্রামের আব্দুল মালেক শেখের ছেলে এবং স্থানীয় মালিফা সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। শুক্রবার একই গ্রামের অপহরণকারী মামুন হোসেনের (২০) দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার টিনের বসত ঘরের মেঝে খুঁড়ে গলিত পচা ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। 
 
সুজানগর থানার অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুল হক জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কলেজ ছাত্র রবিউল বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এর পর ওইদিন সকাল ১১টার দিকে এক ব্যক্তি একটি মোবাইল ফোন থেকে রবিউলের বড় ভাই নজরুল ইসলামকে ফোন দিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পাশাপাশি দাবিকৃত টাকা না দিলে রবিউলকে হত্যা করা হবে বলেও ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। তবে পরিবারের লোকজন প্রথমে ওই ফোনের গুরুত্ব দেয়না। কিন্তু পরের দিন অপহরণকারীরা রবিউলের ফোন থেকে তার আরেক ভাই নবীকে ফোন দিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলে পরিবারের লোকজন রবিউলের অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এ ব্যাপারে নজরুল বাদী হয়ে গত ৫ নভেম্বর সুজানগর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। 
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই বিল্লাল হোসেন জানান, মামলা দায়ের করার পর মোবাইলে কথপোকথনের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার বিকালে একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক শেখের ছেলে উক্ত মামুনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে বলে যে, রবিউলকে অপহরণের পর খুন করে লাশ তার শয়ন ঘরের মেঝে খুঁড়ে পুঁতে রাখা হয়েছে। থানা পুলিশ তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় ওই ঘর খুঁড়ে রবিউলের গলিত পচা লাশ উদ্ধার করে। 
 
পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইবনে মিজান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) রবিউল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি) সালমা সুলতানা আলম, সুজানগর থানার অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুল হক, ডিবির ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম ও সুজানগর থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত হুমায়ুন কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই