মাটির রেফ্রিজারেটর!

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:৩২

খাবার কিংবা সবজি নষ্ট হচ্ছে? এমন পরিস্থিতিতে রেফ্রিজারেটর হতে পারে সমস্যার সমাধান। কিন্তু এমন যদি হয় যে, বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই তাহলে তো রেফ্রিজারেটরের চিন্তা মাথায় আনা হবে হাস্যকর। কিন্তু নাইজেরিয়ার এক ব্যক্তি উদ্ভাবন করেছেন এমন এক ধরনের রেফ্রিজারেটর চা চালাতে বিদ্যুৎ লাগে না। ওই ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আব্বা।

 

দেশটির পল্লীর অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ বিহীন। সেসব এলাকায় কোনোদিন বিদ্যুৎ পৌছাবে কি না তাও তারা জানে না। তাই বলে রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করার সাধ তাদের পুরণ হবে না এমনটি মানতে পারছেন না আব্বা। তার রেফ্রিজারেটর পুরোটাই মাটি দিয়ে তৈরী। এতে রাখা ফলমুল, শাক-সবজি কিংবা অন্যান্য খাবার কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো রাখতে পারবে।

নাইজেরিয়ার মরুভূমি অঞ্চলের আবহাওয়ায় সবকিছু তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়া শুরু করে। তাই সেখানকার মানুষের জন্য রীতিমতো আশীর্বাদ হয়ে এসেছে এই রেফ্রিজারেটর। মোহাম্মদ আব্বা স্থানীয় একটি কলেজের লেকচারার। তার পরিবারের সদস্যরা মাটির পাত্র তৈরী ও বিক্রি করেন। এ কারণে তার মাথায় মাটির রেফ্রিজারেটরের চিন্তা আসে। তার রেফ্রিজারেটর ‘পট-ইন-পট (পাত্রের মধ্যে পাত্র)’ পদ্ধতিতে তৈরী। এর প্রযুক্তিও খুব সরল। বাইরের বড় পাত্রটির মধ্যে ভেজা বালু ভর্তি থাকে। তার মধ্যে বসানো হয় আরেকটি পাত্র সেটি মূলত রেফ্রিজারেটরের ‘ফুড চেম্বার’। পাত্র দুটি ভেজা বস্তা দিয়ে ঢাকা থাকে।

এই মেটো রেফ্রিজারেটর খাবার ঠান্ডা রাখে কিভাবে। আব্বা জানান, বাইরের পাত্রে রাখা ভেজা বালুর পানি যখন বাষ্পীভূত হতে শুরু করে তখন ভেতরের পাত্র থেকে তাপ শোষণ করে। এভাবে এটি ঠান্ডা হতে থাকে। বৈদ্যুতিক ফ্রিজের মতো তাপমাত্রা বরফশীতল করতে না পারলেও মরুভূমির তীব্র গরমের মধ্যেও ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত নামিয়ে আনতে পারে। এই অভিনব উদ্ভাবনের ফলে সেদেশের পল্লী এলাকার গরীব মানুষ ঘন ঘন বাজারে যাওয়া থেকে মুক্তি পেয়েছে। আব্বা নিজের খরচে প্রথমে ৫ হাজার রেফ্রিজারেটর তৈরী করে পাঁচটি গ্রামে বিলি করেন। এরপর আরো ১৫/২০ টি গ্রামে তিনি ৭ হাজার রেফ্রিজারেটর সরবরাহ করেন।

পরে এই কাজে আগ্রহী হয় অনেকে। টাইম ম্যাগাজিনও এই রেফ্রিজারেটর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। পরে আরো লক্ষাধিক রেফ্রিজারেটর নাইজেরিয়া, ক্যামেরন, শাদ, সুদান ও ইরিত্রিয়ায় বিতরণ করা হয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

ইত্তেফাক/রেজা