পাখি গ্রাম আশুরহাটে সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আবাস সংকট

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৩০
 
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পাখি গ্রাম আশুরহাট। এখন পাখির কিচির মিচির আওয়াজে মুখর। কিন্তু পাখির সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে স্থান সংকুলানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। শামুক খোলের পাশাপাশি অন্যান্য পাখিও এ গ্রামে এসে বাসা বাঁধছে। এক গাছে অনেক পাখি আশ্রয় নেওয়ায় ডাল ভেঙে পাখি মারা যাচ্ছে।
 
গ্রামবাসী জানায়, ২০০৭ সালের শীতকালে এক ঝাঁক পারিযায়ী পাখি উপজেলার শামুক খোল গ্রামের একটি শিমুল গাছে আশ্রয় নেয়। ভোরে পাখিরা আহার সংগ্রহে বের হতো। সন্ধ্যার আগে আবার ফিরে ওই শিমুল গাছে রাত কাটাতো। শীত শেষে তারা চলে যায়। পরের বছর ফের এসে সেই শিমুল গাছেই আশ্রয় নেয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত পাখিরা আশুরহাট গ্রামে আসা-যাওয়া করতে থাকে। ২০১৩ সালে আসার পর পাখিরা শীত শেষে ফিরে যায় না। ওই শিমুল গাছে স্থায়ীভাবে বাসা বেঁধে বসবাস শুরু করে। বাসায় ডিম পাড়ে। দ্রুত বংশ বিস্তার হয়। ছয় বছরে পাখির সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে গেছে। শিমুল গাছ ছাড়াও আশ-পাশের অনেক গাছে বাসা বেঁধে বসবাস করছে।
 
বিষয়টি প্রশাসন ও বন বিভাগের নজরে আসে। প্রশাসন এলাকাটি পাখির অভয়ারণ্য বলে ঘোষণা দেয়। গ্রামবাসী পাখিদের নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে আসে। যাতে কেউ এসব পাখি শিকার করতে না তা দেখভাল করে।  রাতেও তারা পাহারা দেয়।  ইতোমধ্যে আশুরহাটের পাখির কথা ছড়িয়ে পড়ে।  প্রতিদিন পাখির নান্দনিক দৃশ্য দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসে। আগে শুধু শামুকখোল পাখি ছিল। এখন পানকৌড়ি পাখিও এসে জুটেছে। এ বছর কয়েকটি সারস পাখিও দেখা যাচ্ছে।
 
যেসব গাছে পাখিরা আবাসস্থল গড়ে তুলেছে সেগুলো ব্যক্তি মালিকানার গাছ। কয়েকটি গাছ কেটেও ফেলেছে। এতে পাখিদের স্থান সংকট দেখা দিয়েছে। এক গাছে অধিক সংখ্যায় পাখি বাস করায় ভারে ডাল ভেঙে পড়ে। গ্রামবাসী সরকারের পক্ষ থেকে পাখির স্থায়ী অভয়ারণ্য গড়ে তোলার জন্য বন সৃজনের আহ্বান জানায়।
 
শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. উসমান গনি বলেন, পাখিদের যাতে সমস্যা না হয় সেদিকে প্রশাসনের নজর আছে। গাছ লাগানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
 
ইত্তেফাক/এমআর