দেশে প্রায় দুই কোটি কিডনি রোগী

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ২০:২৮
কিডনি রোগ এখন বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সমস্যা। একুইট কিডনি ইনজুরিতে (একেআই) প্রতিবছর এক কোটি ৩৩ লাখ লোক আক্রান্ত হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে এর পরিমাণ এক কোটি ১৩ লাখ যাতে বছরে মারা যাচ্ছে ১৭ লাখ। বাংলাদেশে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোন না কোনভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে প্রতিবছর কিডনি বিকল হয়ে মারা যাচ্ছে ৩৫-৪০ হাজার মানুষ। ডায়াবেটিসের কারণে ৪০ শতাংশ ও উচ্চরক্তচাপের কারণে ২০ শতাংশ ক্রনিক নেফ্রাইটিসের কারণে ২০-৩০ শতাংশ রোগী কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দেশে ৮০ লাখ লোক ডায়াবেটিসে এবং ২ কোটি লোক উচ্চরক্তচাপে ভুগছে। কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো-প্রথম দিকে এর কোনো উপসর্গ থাকে না। কিন্তু যখন উপসর্গ ধরা পড়ে ততক্ষণে কিডনির প্রায় ৭৫ ভাগই বিকল হয়ে পড়ে। অথচ জনসাধারণকে সচেতন করা গেলে এবং শুরুতে শনাক্ত করা সম্ভব হলে এ রোগ প্রতিরোধ অনেকাংশেই সম্ভব।  
 
শনিবার কিডনি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ১৩ম জাতীয় সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। 
 
কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক হারুন আর রশিদের সভাপতিত্বে উক্ত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক একে আজাদ খান ও যুক্তরাজ্যের রয়াল লন্ডন হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. স্ট্যানলি ফ্যান।
 
জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, কিডনি রোগের সঙ্গে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের সম্পর্ক রয়েছে। তাই যারা কিডনি রোগে ভুগছেন তাদের হার্টের জটিলতা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। 
 
অধ্যাপক হারুন আর রশিদ বলেন, ক্রনিক কিডনি রোগের প্রধান কারণ ডায়াবেটিস। এজন্য যথাযথ চিকিৎসা ও সচেতনতা জরুরি। কেননা কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করলে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। এই রোগ প্রতিরোধে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা, অতিরিক্ত লবণ পরিত্যাগ, হরহামেশা ব্যাথানাশক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন,  ফাস্টফুড, চর্বি জাতীয় ও ভেজাল খাবারসহ ধুমপান বর্জন করাসহ বছরে অন্তত একবার কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি।
 
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কিডনি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এম এ ওয়াহাব, মহাসচিব অধ্যাপক মুহিবুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক টাইনি ফেরদৌস রশিদ প্রমুখ। এবারের সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া ও নেপালের নেফ্রোলজি ও ইউরোলজি বিশেষজ্ঞরা যোগ দেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই