ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারদিনে দুই ছিনতাই

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৭, ২৩:১২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত চারদিনে একই স্থানে দুইটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর এলাকা থেকে এক ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইকালে ভূয়া ডিবি আটকের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার তিনদিনের মাথায় একই স্থানে আবার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল।
 
রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালটির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক ছাত্র ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনার ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক শরিফুল ইসলামের ব্যাগ ছিনতাই হয়। এর আগেও একই স্থানে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। 
 
ব্যাগ ছিনতাইয়ের স্বীকার শরিফুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, আগামী ৭ ডিসেম্বর তার বিসিএস এর মৌখিক পরীক্ষা। এজন্য তিনি তার অ্যাকাডেমিক মূল কাগজপত্র নিয়ে মাস্টার্সের কাগজপত্র উঠাতে আসছিলেন। কিন্তু ভিসি চত্বরের সামনে তার রিকসা থেকে মোটরসাইকেল থেকে ব্যাগ টান দিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাগে তার সকল অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট ছিল। এ ব্যাপারে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে নং (১১৮৬) বলে জানান তিনি। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
 
এর আগে বৃহস্পতিবার একই জায়গায় এক ব্যবসায়ীকে ডিবি পরিচয়ে থামিয়ে তার কাছে অবৈধ কিছু আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু সে এক লাখ টাকা আছে জানালে ঐ টাকা নিয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ভেতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঝামেলা করলে গুলি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী পথচারীদের বিষয়টি জানালে তারা ধাওয়া দিয়ে ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। 
 
এছাড়া, গত ৩১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ইমরানের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সামনে থেকে ছুরি দেখিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মনিরুজ্জামান মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সামনে ছিনতাইকারীর গুলিতে আহত হন। ওই সময় চার ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে বাধা পেয়ে ছিনতাইকারীরা তাকে গুলি করে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। 
 
এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, কাছাকাছি দুইটি থানা ও দুইটি পুলিশ ফাঁড়িসহ ভিসি চত্বরে ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে পুলিশের টহল থাকে। তা সত্ত্বেও একই জায়গায় ছিনতাই হচ্ছে। এটাকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে তিনি সমস্যার সমাধানে শাহবাগ থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানান। 
 
শাহবাগ থানার ওসি বলেন, এখানে (বিশ্ববিদ্যালয়) হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে থাকে। রিকসায় থাকা ব্যক্তির জিনিস টান দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে  মোটরসাইকেলে আসা লোকেরা। মোটরসাইকেল আপনি কিভাবে ধরবেন? এটা সময় লাগবে। একই জায়গায় হচ্ছে কোনো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাকতালীয়ভাবে এটা হতে পারে। 
 
এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, এখানে (বিশ্ববিদ্যালয়) হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে থাকে। রিকসায় থাকা ব্যক্তির জিনিস টান দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মোটরসাইকেলে আসা লোকেরা। মোটরসাইকেল আপনি কিভাবে ধরবেন? এটা সময় লাগবে। একই জায়গায় হচ্ছে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাকতালীয়ভাবে এটা হতে পারে। 
 
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, এত মানুষের সামনে থেকে কিভাবে ছিনতাই হয়? পুলিশের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। 
 
ইত্তেফাক/এমআই