রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় অবস্থিত মায়াকাটারা মার্কেটে দখলদারদের ঝুলানো অবৈধ সাইনবোর্ড ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) ও ঢাকার সহকারি কমিশনারকে (রাজস্ব) এই আদেশ বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি কাজী রেজা-উল ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ দেন। এছাড়া মায়াকাটারা মার্কেটের সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের ব্যর্থতা বা নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা এবং ওই মার্কেটের ব্যবসায়ীদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক, ডিএমপি কমিশনার, ঢাকার সহকারি কমিশনার (রাজস্ব) ও কোতোয়ালি থানার ওসিকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস শুনানি করেন।
গত ৭ নভেম্বর ‘সরকারি মার্কেট দখলে বেসরকারি সাইনবোর্ড’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় হাজার কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তি দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। ওই সম্পত্তিতে মায়াকাটারা মার্কেট নামে গার্মেন্ট অ্যাক্সেসরিজের একটি পাইকারি মার্কেট রয়েছে। সেখানে দোকানের সংখ্যা প্রায় তিনশ'।
চক্রের সদস্যরা দোকানিদের জানিয়েছে, মার্কেটের মূল মালিক সাফায়াত গং মার্কেটটি বিক্রি করে দিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী শাজাহান সিরাজ জুয়েলসহ কয়েকজন সেটি কিনেছেন। তারা এখন বহুতল শপিং কমপ্লেক্স তৈরি করবেন। নতুন মার্কেট তৈরি হলে দোকানিরা আকার অনুযায়ী তাদের দোকান বুঝে পাবেন। এরই মধ্যে মার্কেটের ওপরে বায়নাসূত্রে মালিকানার বিশাল সাইনবোর্ডও টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় দোকানিরা পড়েছেন মহাবিপাকে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এ মার্কেটটি আসলে কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি সম্পত্তি। সরকারি সম্পত্তিতেই টানানো হয়েছে দখলের সাইনবোর্ড। সাধারণ ব্যবসায়ীরা সেখানে চরম আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। এ নিয়ে কোনো কথা বলতে গেলে তাদের গুম-খুনেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট করেন আব্দুল আজিজ নামের জনৈক এক সাংবাদিক। রিটের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল ও অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেয়।
ইত্তেফাক/এমআই
