‘ঋতুবৈচিত্র্য কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ আমদানি-রপ্তানি করতে পারে প্রতিবেশী দেশগুলো’

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৭, ২০:০২
প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশগুলোর মধ্যে যে ঋতু বৈচিত্র্য রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে এক দেশ আরেক দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি-রপ্তানি করতে পারে। এটি আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী এবং প্রকৌশলগত অপচয় কমাবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খরচে প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ এবং দক্ষ ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে।
 
রবিবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এক কর্মশালা ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ে কর্মরত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান নিয়ে তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন (কেএফডব্লিউ) এবং নেপালের অল্টারনেটিভ এনার্জি প্রমোশন সেন্টার (এইপিসি)।  
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, ভারত এবং মিয়ানমার একসাথে বিদ্যুতের আন্তঃদেশীয় ব্যবসা করতে পারে। এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যাবে। যেমন নেপালে ও ভুটানে শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে এবং গরমে কমে। বাংলাদেশে বিপরীতভাবে গরমকালে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে ও শীতকালে কমে। গরমে নেপাল-ভুটানের অনেক পানিবিদ্যুৎকেন্দ্র অলস পড়ে থাকে যখন বাংলাদেশে লোডশেডিং বাড়ে এবং শীতকালে বাংলাদেশে তেল-গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র অলস পড়ে থাকে যখন নেপাল-ভুটানে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ে। ঋতুভেদে চাহিদার এই বিপরীত অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এক দেশ আরেক দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি-রপ্তানি করতে পারে। 
 
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ৪৫ লাখের বেশি সোলার হোম সিস্টেম বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক কোটি ৭০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও এটি অতুলনীয় অর্জন। 
 
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টেকসই এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন, ইডকলের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ মালিক, কেএফডব্লিউ’র পরিচালক রেজিনা স্নেইডার। ১৫টি দেশের প্রায় ৫০ জন আন্তর্জাতিক এবং ৮০ জন স্থানীয় অংশগ্রহণকারী এ কর্মশালা ও মেলায় যোগদান করছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এ মেলা চলবে। 
 
ইত্তেফাক/এমআই