অফশোর কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে সংসদে। রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এ দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী।
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, পানামা পেপরস ও প্যারাডাইস পেপার কেলেঙ্কারিতে যাদের নাম এসেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জাতীয় স্বার্থে প্রকাশ করা উচিত। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসময় সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন।
রুস্তম আলী ফরাজী তাঁর বক্তব্যে বলেন, এর আগে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে কয়েকজন বাংলাদেশির নাম এসেছিল। বিষয়টি নিয়ে সংসদে কথাও বলেছিলাম। তখন বলা হয়েছিল বিষয়টির ওপর একটি তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়া হবে। ওই রিপোর্ট সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আমরা কিছুই জানতে পারিনি। তিনি বলেন, পানামা পেপারসে নাম ছিল ১৪ জনের। এবার প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারি প্রকাশ পেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের ২১ জনের নাম এসেছে। তিনি বলেন, ওই তালিকায় বিএনপি চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরও অনেকের নাম উঠে এসেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নামও আমরা জানতে পেরেছি। স্বতন্ত্র এই এমপি বলেন, কারা সেখানে টাকা পাঠিয়েছে, কত টাকা বিনিয়োগ করেছে, কেন বিনিয়োগ করেছে এসব বিস্তারিত জানতে চাই। ওইসব টাকা কী কালো নাকি সাদা ছিল, কিংবা কেন বিদেশে পাচার করা হলো তাও জানতে চাই। ওইসব পেপারস কেলেঙ্কারির সঙ্গে কানাডা, আমেরিকাসহ আর বড় বড় দেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের মতো ছোট দেশও রয়েছে। আমাদের দেশের কয়েকজন এ ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত। তাই জাতীয় স্বার্থ ও মানুষের স্বার্থে অর্থমন্ত্রীর কাছে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও নথি জানতে চাই।
প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত প্যারাডাইস পেপারসে এসেছে ১১ ব্যক্তি ও বাংলাদেশ নামযুক্ত ১০টি প্রতিষ্ঠানের নাম। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই জ্বালানি খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। বৃটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত ছোট্ট একটি অঞ্চল বারমুডা। অঞ্চলটি নামমাত্র করের বিনিময়ে ব্যবসা করার জন্য বা সহজেই কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য পরিচিত। এর একটি ল ফার্মের নাম অ্যাপলবি। বারমুডায় যারা কোম্পানি নিবন্ধন করেছে, তাদের সব তথ্য ছিল অ্যাপলবির কাছে। সম্প্রতি অ্যাপলবির হাতে থাকা ১ কোটি ৩৪ লাখ গোপন নথির তথ্য ফাঁস হয়ে চলে যায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইএজে) কাছে। সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত ৬৮ দেশের ৩৮০ জন অনুসন্ধানী সাংবাদিক বর্তমানে তথ্যগুলো নিবিড় তদন্ত করছেন। প্রতিদিন নতুন তথ্য বের করছেন তাঁরা। তবে কেউ অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত এ কথা এখনও বলা হয়নি।
ইত্তেফাক/এমআই
