বাগেরহাটের চিতলমারীতে ‘প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অতিথি পাখি’ শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় গত ১৬ নভেম্বর রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ায় প্রশাসনের সাড়া মিলেছে। এ রিপোর্টের সূত্র ধরে গত রবিবার সন্ধ্যায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ ৪৫টি অতিথি পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছে।
জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মো. রেজাউল করিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রবিবার সন্ধ্যায় চিতলমারী উপজেলার নালুয়া বাসস্থানে ঢাকাগামী ফাল্গুনি পরিবহনে ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ওই বাসের ছাদের উপর থেকে একটি বস্তাবন্দী অবস্থায় ৪৫টি অতিথি পাখি উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাখি বিক্রেতা পালিয়ে যায়। পাখিগুলি রাজধানীতে বিক্রির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রেজাউল করিম জানান, পত্রিকায় রিপোর্ট দেখে জানাতে পেরেছি এলাকায় প্রকাশ্যে অতিথি পাখি বিক্রির বিষয়টি। এখন থেকে পাখি শিকারি ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে বলেও তিনি মন্তব্য করে।
উল্লেখ্য, শীতের শুরুতে সুদূর সাইব্রেরিয়া ও হিমালয় সংলগ্ন অন্যান্য দেশ থেকে খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। এলাকার বিভিন্ন খাল,বিল,জলাশয়ে আশ্রয় নিচ্ছে তারা। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু শিকারীরা ফাঁদ ও জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছেন বিভিন্ন হাট-বাজারে।
এ ব্যাপারে পাখি ও প্রাণি বিশেষজ্ঞ শরীফ খান জানান, প্রতিবছর শীত মৌসুমে প্রচুর বরফ পাতের কারণে সাইব্রেরিয়া, ভুটান, নেপাল, চীন, রাশিয়া, মোঙ্গলীয়া, ভারতসহ হিমালয় সংলগ্ন নানা দেশ থেকে পরিযায়ী পাখিরা এদেশে এসে আশ্রয় নেয়। ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে যে কোনো পাখি ও বন্যপ্রাণী শিকার ও পালন করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. আবু সাঈদ জানান, পাখি শিকার ও বেচা-কেনার সাথে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএম।
