রংপুরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বিএনপিরই ষড়যন্ত্র: হাছান মাহমুদ

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:০৬
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রংপুরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বিএনপিরই ষড়যন্ত্র। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি কনফারেন্স লাউঞ্জে মওলানা ভাসানী ঐক্যজোট আয়োজিত মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
 
হাসান মাহমুদ বলেন, বিএনপি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। রংপুরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এটি তাদের পরিকল্পনার অংশ। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে তারা। বিএনপির রাজনীতি মূল প্রতিপাদ্য সাম্প্রদায়িকতা। নির্বাচন যখন আসে তখন সাম্প্রদায়িকতার কথা বলে ইসলামকে ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করে ভোটগুলো আদায় করার চেষ্টা করে। সুতরাং দেশে হামলা ও রংপুরের বিশৃঙ্খলা বিএনপির পরিকল্পনার অংশ। 
 
তিনি বলেন, নির্বাচন সরকারের অধীনে হয় না। সরকার তখন রুটিন কাজ করে মাত্র। সরকারের একটা ওসি ট্রান্সফার করারও তখন ক্ষমতা থাকে না। সেই সময় সংবিধান অনুযায়ী যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই সরকারই তখন নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করে। ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের একচুলও ব্যত্যয় হবে না। বিএনপির ‘ইচ্ছা’ ‘অভিলাষ’ পূরণের জন্য কোন নির্বাচনকালীন সরকার হবে না। 
 
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, আশা করেছিলাম তার কথা বার্তায় শালীনতা থাকবে এবং নির্লজ্জ মিথ্যাচার থাকবে না। কিন্তু তিনি যেভাবে মিথ্যাচার করছেন এটি ভাসানীর প্রতিও চরম অসম্মান। কারণ তিনি নিজ দল ত্যাগ করে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। আর এতেই বোঝা যায় তিনি একজন আদর্শচ্যুত মানুষ। 
 
‘আওয়ামী লীগের নাগরিক সমাবেশে আসতে স্কুল ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে’ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন অভিযোগ মিথ্যাচার হিসেবে আখ্যায়িত করে হাছান মাহমুদ বলেন, নাগরিক সমাবেশে অংশ নিতে কোনো শিক্ষার্থীকে বাসে তোলা হয়নি। এতো বড় সমাবেশে একজনও স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল না। আর ফখরুল দেখেছেন বাসে শিক্ষার্থী তোলা হচ্ছে। মিথ্যাচারেরও তো সীমা থাকে। তিনি সবসময় সুন্দর করে মিথ্যা কথা বলেন কিন্তু এবার মিথ্যা বলার সময় একটু গলদ করে ফেলেছেন। 
 
বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বেকুবের মতো মিথ্যা বলবেন না। মিথ্যা বলার আগে একটু খোঁজ-খবর নেবেন। আপনারাই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ২১ বছর নিষিদ্ধ করেছিলেন। তখন এই ভাষণ বাজালে মাইক কেড়ে নেওয়া হতো। মাইক ভেঙে ফেলা হয়েছে অনেকবার। রেডিও-টেলিভিশনে কখনো বাজানো হয়নি এই ভাষণ।
 
ন্যাপ ঐক্য জোটের আহ্বায়ক এম এ ভাসানীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, সংগঠনের নেতা অধ্যক্ষ বেনজীর আহমেদ প্রমুখ। 
 
ইত্তেফাক/এমআই