গৃহবধূ শাম্মীর লাশের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ৩ ডিসেম্বর তাকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলার কেস ডকেট (সিডি) পর্যালোচনা করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এর আগে তলব আদেশে হাইকোর্টে হাজিরা দেন এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই নওশের আলী।
তার উদ্দেশে আদালত বলেন, যথাযথভাবে মামলার তদন্ত করেননি বলেই জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। আর এ কারণে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। আদালত মামলার তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে এসআই বলেন, এ পর্যন্ত দশজন সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। দু’জন আসামির মধ্যে নিহতের স্বামী ও একজন মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে দ্বিতীয়বার রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে।
আদালত নথি পর্যালোচনা করে বলেন, দেখা যাচ্ছে ‘ঘাড়ের উপর আঘাতের স্থানে ‘কালো বর্ণের’ দাগ আছে। কিন্তু এই কালো বর্ণের শব্দটি একবার লিখে আবার কেন কেটেছেন? তখন এসআই নওশের আলী এ বিষয়ে কোন সুদত্তর দিতে পারেননি। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছেন? এসআই বলেন, রিপোর্ট পেয়েছি। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ময়না তদন্তকারী চিকিৎসককে তলব করেন।
গত ৫ নভেম্বর গৃহবধূ শাম্মী হত্যা মামলা-‘মাকে বাবা অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে’ তদন্ত কর্মকর্তার গড়িমসির অভিযোগ-শিরোনামে একটি প্রতিবেদন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৭ জুন রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে ভাড়া বাসায় একটি বায়িং হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন টিটু তার স্ত্রী শামিমা লাইলা আরজুমান্না খান শাম্মীকে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করে। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে পরদিন মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ ঘাতক স্বামী আলমগীর ও তার তৃতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান মুক্তাকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযোগ উঠেছে, আলোচিত এ মামলার তদন্ত নিয়ে গড়িমসি করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা নওশের আলী। প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তলব করে।
ইত্তেফাক/এমআই
