হাওরাঞ্চলে কমছে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:২২
 
হাওরাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা ও ইবতেদায়ি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আশংকাজনকভাবে কমেছে। এর কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে হাওরাঞ্চলে ফসলডুবির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কাজের সন্ধানে পরিবার পরিজন নিয়ে শহরে পাড়ি জমিয়েছেন। পরিবারের খুদে সদস্য বা বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও বেঁচে থাকার তাগিদে অভিভাবকদের সাথে হয়েছে শহরমুখী। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্যেও বিদ্যালয়ে ফিরতে পারেনি হাওরাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী। ফসলডুবির পরপর হাওরাঞ্চলের মানুষ যখন এলাকা ছাড়তে শুরু করে তখন থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকে। জীবনের তাগিদে এলাকায় ফিরতে না পারায় চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না অনেকেই।
 
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য জেলায় মোট ৫৯ হাজার ৮৩৮ জন শিক্ষার্থী ডিআরভুক্ত (পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তালিকাভুক্ত) হয়। তবে রবিবার শুরু হওয়া প্রাথমিক শিক্ষা ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রথম দিনের ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষায় ডিআরভুক্ত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৫ হাজার ৬৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও ৪ হাজার ২০৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৯৮ জন, দোয়ারাবাজার ৫২৬ জন, বিশ্বম্ভরপুর ২৬৬ জন, ছাতক ৬১১, তাহিরপুর ৩৫০ জন, জামালগঞ্জ ২৬৮ জন, ধর্মপাশা ৪৫৩ জন, শাল্লা ৩০২, দিরাই ৪২৯ জন, জগন্নাথপুর ৩২১ জন ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ২৮১ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর আগে গত ১ নভেম্বর জেএসসি ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষায় জেলায় ৩৩ হাজার ৩৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৩৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।
 
বাংলাদেশ সহকারী শিক্ষক সমিতির সহ-মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক সারোয়ার লিটন বলেন, ‘গত বোরো মৌসুমে হাওরাঞ্চলে ফসলডুবির ফলে এ অঞ্চলের আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষা ক্ষেত্রেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অভিভাবকেরা কাজের সন্ধানে শহরমুখী হয়েছে। অভিভাবকদের সাথে শিক্ষার্থীরাও এলাকা ছেড়েছে। অর্থাভাব ও বেঁচে থাকার তাগিদ কোমলমতি পরীক্ষার্থীদেরকে কর্মমুখী করে তুলেছে। ফলে বিদ্যালয়গুলো থেকে রেজিস্ট্রেশন করার ব্যবস্থা করা হলেও অনেক পরীক্ষার্থী এলাকায় ফিরতে না পারায় হয়তো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।’
 
অন্য বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা তুলনামূলক কম জানিয়ে ধর্মপাশা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকেয়া আক্তার খাতুন বলেন, ‘আগে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করলেও ফসলডুবির ফলে যেসকল পরীক্ষার্থী এলাকার বাইরে আছে তাদের অনেকেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।’
 
জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন, ‘পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য শিক্ষকেরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। হাওরাঞ্চলে বন্যার কারণে অনুপস্থিতির হার কিছুটা বেড়েছে।’ বাসস
 
ইত্তেফাক/এমআর