জাবি মেডিক্যালে প্যাথোলজি টেস্টের যন্ত্র আছে, ক্যামিকেল নেই

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:১৯

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিক্যাল সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি থাকার পরেও শুধুমাত্র ক্যামিকেলের অভাবে বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন মেডিক্যাল টেস্ট। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পর্যাপ্ত বাজেট না পাওয়ায় এসব ক্যামিকেল কেনা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। যার কারণে চড়া দামে শিক্ষার্থীদের বাইরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে।

 

মেডিকেল সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় ‘মেডিক্যাল উন্নয়ন ফি’ বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া আর্থিক খাত থেকে অনেক অবেদনের পর দুটি মেডিক্যাল টেস্টের যন্ত্র কেনার জন্য ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সে টাকা দিয়ে কেনা হয় বায়োক্যামিস্ট্রি এনালাইজার ও অটোমেটিক হেমাটোলোজি এনালাইজার নামে দুটি যন্ত্র। যা দিয়ে সুগার, ইউরিন, প্রোটেইন, ইউরিয়া, ক্রিয়ািটিনাইন, এএলটি, এসপি, এসটি, টিজি, কোলেস্টেরল, এইচডিএল, এলডিএল, ইউরিকএসিড, ক্যালসিয়াম, টি.প্রোটেইন, এলবুমিন, এইচবিআইচি, ইলিকট্রোলাইট, সিআরপি, আরএ সহ বিভিন্ন টেস্ট  করা সম্ভব। কিন্তু এখন তা দিয়ে নামে মাত্র সিভিসি, ইএসআর, ইউরিন, স্টল, সুগার, বিলিরুবিন, ছাড়া অন্য কোনো পরীক্ষা হচ্ছে না। বাজেটের অভাবে ক্যামিকেল ক্রয় না করতে পারার কারণে এসব পরীক্ষা করতে পারছেন না বলেন জানান সংশ্লিষ্টরা। যার ফলে শিক্ষার্থীদের বাইরের ক্লিনিকে চড়া দামে প্যাথলজি টেষ্ট করতে হয়। যে পরিমান শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী মেডিক্যাল থেকে সেবা নেন সে অনুযায়ী বছরে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে এখনো প্রতি বছর প্যাথিলজি বাবদ বাজেট ছিল ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

 

মেডিক্যাল সেন্টারের এমন নাজুক অবস্থা সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ঝুমা প্রিয়া বলেন, শিক্ষকরা চাইলে অন্য মেডিক্যালে চিকিত্সা নিতে পারেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা অর্থের অভাবে পারেন না। মেডিক্যালের সেবা বর্তমানে খুবই নিম্মমানের। মেডিক্যালের জন্য শিক্ষার্থী থেকে নেওয়া সব অর্থ সেখানেই খরচ করা দরকার। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট থেকেও এর জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া উচিত।  এ বিষয়ে মেডিক্যাল কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, আমরা এ বিষয়ে ভাবছি। আশা করছি সমাধান হবে।

 

ইত্তেফাক/এএম।