সূচক বাড়ার সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমেছে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৮:২৯
পুঁজিবাজারে সূচক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা কমেছে। গত অক্টোবর শেষে বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এ তথ্য দেখা গেছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০০ কোম্পানিতে অক্টোবর শেষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারণ করা শেয়ারের বাজার মূল্য ছিল ৫০ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। আগের মাস সেপ্টেম্বরের তুলনায় যা ৪২০ কোটি টাকা কম। অক্টোবর শেষে বিভিন্ন কোম্পানির বাজার মূলধনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল মোটের ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আগের মাসের তুলনায় এ হার শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কম। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার ধারণের তথ্য পর্যালোচনা করে এসব দেখা গেছে।
 
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরে পুঁজিবাজারের সার্বিক মূল্য সূচক বেড়েছে। আর সূচক বাড়তে থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মুনাফা নিতে শুরু করেন। এটাই বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে কেউ কেউ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের উপর জোর দেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারে ব্যবসা করতে এসেছেন। সুতরাং তারা মুনাফা পেলে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা নিবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে তারা মুনাফা নিলেও শেয়ারের দাম কিছুটা কমলেই আবার শেয়ার কিনতে শুরু করেন।
 
তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর শেষে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সব শেয়ারের বাজার মূল্য ছিল ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল মোটের ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়া উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ ছিল ৫৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ, সরকারের অংশ ছিল ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ, বিদেশিদের অংশ ছিল ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল ১৯ দশমিক ১২ শতাংশ।
 
তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত মাসে ১২৮ কোম্পানির মোট শেয়ারে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বেড়েছে। এক শতাংশের ওপর শেয়ার ধারণ বেড়েছে ৪৭টিতে। বিপরীতে ১১৫টিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার কমেছে। সবচেয়ে বেশি শেয়ার ধারণ বেড়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি ইনটেক অনলাইনে। কোম্পানিটিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে ২১ দশমিক ৯৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এরপর সর্বাধিক ৭ শতাংশ বেড়ে জেমিনি সি ফুডে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ দাঁড়িয়েছে ১১ শতাংশে, কোহিনূর কেমিক্যালে প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ২১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, সালভো কেমিক্যালে সাড়ে ৬ শতাংশ বেড়ে ১৮ শতাংশের ওপরে, ওয়াটা কেমিক্যালে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে সাড়ে ৩৭ শতাংশে, ইসলামী ব্যাংকে ৫ শতাংশের ওপর বেড়ে সোয়া ১০ শতাংশে ও এফএএস ফাইন্যান্সে বেড়ে ২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
 
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে কমেছে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সে। এ কোম্পানির মোট শেয়ার থেকে সর্বাধিক ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ শেয়ার কমেছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের। অক্টোবর শেষে  কোম্পানিটিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মোট শেয়ারের পরিমাণ ছিল সোয়া ১৪ শতাংশ। এরপর সর্বাধিক ৫ থেকে প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার ধারণ কমেছে উত্তরা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, বিবিএস কেবলস ও আমরা নেটওয়ার্কস থেকে। এছাড়া ঢাকা ইন্স্যুরেন্সে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমেছে ৪ শতাংশ।
 
এদিকে অভিহিত মূল্যে অক্টোবরে সব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বর্তমানে প্রায় ৫৭ হাজার ১৩২  কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের তুলনায় যা ১৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বেশি। এক্ষেত্রে নতুন তালিকাভুক্ত আমরা নেটওয়ার্কসের মূলধন যোগ হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানির বোনাস শেয়ার ইস্যুর কারণেও মূলধন বেড়েছে।
 
ইত্তেফাক/এমআই