‘মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ অটুট রয়েছে’

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:৫৪
 
মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তিতে দেশের স্বার্থ অটুট রয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে তিনি সন্তুষ্ট। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের রাজধানীতে চুক্তি স্বাক্ষরের দুইদিন পরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজ শনিবার তিনি বলেন, চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণন্ন হবে না... আমাদের স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রধান লক্ষ্য বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফেরত পাঠানো এবং আমরা সেটা করেছি।
 
তিনি বলেন, ‘যুক্তিসঙ্গত’ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে পুনর্বাসন সম্পন্ন হবে যদিও ‘চুক্তি’ স্বাক্ষরের দুই মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। 
 
মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুকির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের পরে এ দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ইউ কিয়াও থিন সো’র সঙ্গে এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের প্রতি জাতিগত নিধনের নির্মমতার অবস্থান থেকে মিয়ানমার সরে আসায় এই চুক্তি স্বাক্ষর হলো। 
 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। পরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত্যে পৌঁছে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। 
 
তিনি বলেন, ২২ থেকে ২৩ নভেম্বর দ্বিপাক্ষিক সফরে বাংলাদেশে অণুপ্রবেশকারী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনা এবং একটি দ্বিপাক্ষিক ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়।
 
মন্ত্রী বলেন, গত মে ২০১৭ হতে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনার জন্য মিয়ানমারকে প্রস্তাব দিয়ে এসেছে। গত ২৫ আগস্ট ২০১৭ এর ঘটনার পর মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর নির্মম অভিযানের কারণে লক্ষ লক্ষ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনার জন্য সেপ্টেম্বর ২০১৭ এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাচালে মিয়ানমারের কাছে পুনরায় প্রস্তাব করে। আমার আমন্ত্রণে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দফতরের মন্ত্রী উ চ টিন্ট সোয়ে গত ২ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে বাংলাদেশ সফর করেন এবং প্রত্যাবাসনের ওপর দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সূত্রপাত হয়। বাংলাদেশ সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন চুক্তির একটি খসড়া হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে চুক্তি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষর করার জন্য মিয়ানমারের আমন্ত্রণে আমি দ্বিপাক্ষিক সফর শুরু করি।
 
মাহমুদ আলী বলেন, এ সফরে সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ২২ নভেম্বর পূর্বাহ্নে দু’দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ আলোচনা করেন। একই দিন অপরাহ্নে আমি এবং স্টেট কাউন্সিলরের দফতরের মন্ত্রী খসড়াটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আলোচনা করি। দীর্ঘ আলোচনা শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করি। চুক্তিটি ২৩ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ অপরাহ্নে স্বাক্ষরিত হয়। বাসস
 
ইত্তেফাক/কেকে