উত্তরপত্রে প্রশ্নের নম্বর না লেখায় রেজাল্ট আটকে গেল

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৭, ২৩:৪০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের পঞ্চম সিমেস্টারের সমাপনী পরীক্ষায় উত্তরপত্রে প্রশ্নের নম্বর না লেখায় দুই ছাত্রীর চূড়ান্ত ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই ক্ষেত্রে রেজাল্ট আটকে রাখার কোনো নিয়ম নেই বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস সূত্রে জানা গেছে।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সম্মান পঞ্চম সেমিস্টার ২০১৭ এর সমাপনী পরীক্ষার ‘‘ইন্ট্রোডাকশন টু ইসলামিক ল’,‘পারসোনাল ল’ অ্যান্ড ‘ল অব ইনহেরিটেন্স ইন ইসলাম’ বিষয়ক কোর্সে এই ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, এই কোর্স পরীক্ষায় পার্ট ‘এ’ ও পার্ট ‘বি’ অংশে ৮টি প্রশ্নের মধ্যে মোট চারটি প্রশ্নের উত্তর লেখার নির্দেশনা ছিলো। দুই ছাত্রী দুই অংশ হতে চারটি প্রশ্নের উত্তর লিখেন। কিন্তু তারা কোন প্রশ্নের উত্তর লিখেছেন তার নাম্বার দেননি। এতে কোর্স শিক্ষক অধ্যাপক মু. মুসলেহ উদ্দীন নিজে প্রশ্নের নম্বর লিখে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন।

কিন্তু আরেক কোর্স শিক্ষক ও পরীক্ষা কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মু. শফিক আহমেদ উত্তরপত্র দুটি মূল্যায়ন থেকে বিরত থাকেন। পরে পরীক্ষা কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. মু. ইউসুফ ইবনে হুসাইন বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর একটি চিঠি দিয়ে কি ঘটেছে তা জানতে চান।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস জানতে পারেন যে, কোর্স শিক্ষক অধ্যাপক মু. মুসলেহ উদ্দীন উত্তরপত্র দুটিতে উত্তর দেখে প্রশ্নের নম্বর দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছেন। কিন্তু কোর্স শিক্ষক অধ্যাপক ড. মু. শফিক আহমেদ উত্তরপত্র দুটি মূল্যায়নই করেননি।

পরে বিষয়টি জটিল উল্লেখ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধুরী সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের কাছে পাঠিয়ে দেন।

এদিকে, গত ২৪ অক্টোবর পঞ্চম সেমিস্টার পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হলেও এই দুই ছাত্রীর ফলাফল আসেনি। বর্তমানে তারা বিভাগের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন শিক্ষকের নিকট ঘোরাঘুরি করছেন কিন্তু কোনো ফল হচ্ছে না।

এ বিষয়ে  ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের একজন শিক্ষক ইত্তেফাককে বলেন, পরীক্ষার উত্তপত্রে এরকম ভুল কাংক্ষিত নয়। তবে এরকম ভুল হলে শিক্ষকরা মানবিক দিক বিবেচনা করে উত্তর দেখে প্রশ্নের নাম্বারিং করে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন বলে জানি। শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের কথা শিক্ষকদের বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উত্তরপত্রে প্রশ্নের নম্বর না থাকা সত্ত্বেও উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে কোর্স শিক্ষক অধ্যাপক মু. মুসলেহ উদ্দীন বলেন, একজন মূল্যায়নকারীকে নিয়োগ করা হয়। তিনি তার দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করেন।

উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করার বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ড. মু. শফিক আহমেদকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমি দেখে জানাবো।

ইত্তেফাক/নূহু