নারীর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:৪১

দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা ও ভয়াবহতা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে বলে মনে করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর-১০ ডিসেম্বর) উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে পরিষদ। মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বলা হয়, বিবিএস-এর ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৮৭ ভাগ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত ১৪টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে (২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত) পরিসংখ্যান অনুযায়ী উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ২৫৫ জনকে ও যৌন-নিপীড়নের শিকার হয়েছে ১৫৫ জন এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ১০৭৯ জন। এই ঘটনা প্রতিরোধ করতে হলে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ্পূর্ণ মন্ত্রণালয় করার দাবি জানিয়েছে পরিষদ। পরিষদ আরও জানায়, নারীরা নানা চ্যালেঞ্জিং পেশায় এসেছে কিন্তু তার নিরাপত্তা নেই। নিরাপত্তা নারীর জন্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

‘যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলো, নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক মানবিক সমাজ, রাষ্ট্র গঠন কর’ শ্লোগান নিয়ে এ বছর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ১৫ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন করছে। সংবাদ সম্মেলনে এর বিস্তারিত জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম। আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি নাহার আহমেদ, লক্ষ্মী চক্রবর্তী, রেখা চৌধুরী, হান্নানা বেগম, অন্জুমান আরা আকসীর, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক শাহানা কবির সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদ সম্পাদক রীনা আহমেদ প্রমুখ। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের ডিরেক্টর লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি অ্যাড. মাকসুদা আক্তার।

আয়শা খানম বলেন, বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার কারণ প্রতিরোধের অভাব, পিতৃতন্ত্র ও বৈষম্যমূলক আইন। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার, নারী উন্নয়ন সংগঠন সবাই মিলে কাজ করছে কিন্তু তারপরও এই ধরনের সহিংসতা বেড়ে চলেছে। আইনের প্রচার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকতে হবে এবং বিচার বিভাগকে জেন্ডার সেনসেটিভ হতে হবে। তনু হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন এমন ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে আমরা গড়িমসি করছি। এই ধরনের ঘটনায় যদি রাষ্ট্র আপোষহীন, ক্ষমাহীন এবং জিরো টলারেন্স না হয় তাহলে সমাজের ভিতরে এই অবক্ষয় রুখে দাঁড়ানো যাবে না। বেসরকারি সংগঠন সহকারী ভূমিকায় কাজ করছে। কিন্তু মাল্টিসেক্টরাল অ্যাপ্রোচে আমরা সরকারের সহায়তা কামনা করছি। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা ঘটনার পিছনে যেমন দৌড়াবেন তেমনি তারা ঘটনার ফলো-আপও করবেন। তবে সবার আগে পরিবার থেকে আমাদের শিক্ষা দিতে হবে যে নারী মানবজাতি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ২৬টি সুপারিশে ধর্ষণের শিকার নারীকে ধর্ষণের জন্য দায়ী করার প্রচলিত মানসিকতা পরিহার করা, ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি সংবেদনশীল হবে পরিবার, রাষ্ট্র, সমাজ ধর্ষণের শিকার নারীর পাশে দাঁড়ানো এবং তার মানসিক শক্তি বৃদ্ধি, চিকিত্সাসহ ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করা, নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে পারিবারিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা, নারী ও কন্যার প্রতি নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়, প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করা, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি গ্রহণ করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বর্তমান আইন পরিবর্তন করে ধর্ষণকারীকেই ধর্ষণ করেন নাই—বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে এই বিধান প্রণয়ন করা,অপরাধীকে চিহ্নিত করে পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কট এবং আইনের আওতায় আনা প্রভৃতি দাবি করা হয়।

ইত্তেফাক/নূহু