‘শেখ হাসিনার বক্তৃতা শেষে জয় বাংলা স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেনেড হামলা’

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:৫৪
‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতা শেষে জয় বাংলা স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।’
 
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আজ সোমবার ১৪তম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। মামলার কার্যক্রম মঙ্গলবার পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে।
 
প্রধান কোঁসুলিকে যুক্তিতর্ক পেশে আরও সহায়তা করছেন আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা। এছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে মো. আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত ও আশরাফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল সোবহান তরফদারসহ অন্যান্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।
আজ যুক্তিতর্কে মামলার এজহারকারী ও রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী মতিঝিল থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টও শরীফ ফারুক আহমেদসহ রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম ৩৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দির অংশ বিশেষ তুলে ধরা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন-ঘটনায় নিহতের মরদেহের সুরতহালকারী, জব্দ তালিকা ও ঘটনাকালীন উপস্থিত সাক্ষি।
 
এজহারকারী তার জবানবন্দিতে বলেন, শেখ হাসিনা ওই দিন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের সময় তার বক্তৃতা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। সভার জন্য ট্রাকে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চের ২ ফুটের মধ্যেই গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। ৭/৮টির মতো গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। ঘটনায় শতাধীক লোক হতাহত হয়। যাতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, আইনজীবী-সাংবাদিকও রয়েছেন। এ মামলার প্রথম আইও-এসআই মো. আমির হোসেনের তথ্যের সঙ্গে এজাহারকারীর তথ্যের মিল পাওয়া যায় বলে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে বলেন।
 
আজ রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থাপিত ঘটনার অন্য সাক্ষিরাও তাদের জবানবন্দিতে বলেন, শেখ হাসিনার বক্তৃতার পর জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান আজ যুক্তিতর্কের শুরুতেই আদালতে বলেন, মামলার যে সকল আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পেশ করেছেন এবং সাক্ষীদের মধ্যে যারা জবানবন্দি দিয়েছেন তা যুক্তিতর্কে এ পর্যন্ত তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সমথর্নে সাক্ষী ও আসামিরা কে কি বলেছেন তা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া এজাহারের কিছু অংশ এবং অভিযোগপত্রের কিছু অংশ যুক্তিতর্কে তুলে ধরা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ যুক্তিতর্ক পেশ করা হবে।
 
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির জ্যেষ্ঠ বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দসহ ২২৫ জনের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষেও ২০ জন সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এসব সাক্ষ্য জেরা করেছে। বাসস।
 
ইত্তেফাক/এমআই