চবিতে কাফনের কাপড় নিয়ে দিয়াজের মায়ের আমরণ অনশন

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:২৪
 
'আমার ছেলের কবরের মাটি নিয়ে শপথ করে আসছি। এখান থেকে আমার মরদেহ নিতে হবে। কাফনের কাপড়ে নিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন আসামিও গ্রেফতার না হয় এখান থেকে আমি সরবো না।' সোমবার সকাল নয়টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর হত্যাকারীদের বিচার ও ক্যাম্পাস থেকে অপসারণের দাবিতে কাফনের কাপড় পড়ে আমরণ অনশনকালে এমন কথা বলছিলেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী।
 
জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্বরের সামনে কাফনের কাপড় নিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন দিয়াজের মা। এসময় দিয়াজ হত্যার আসামিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি জানায় তিনি। পরে অনশন ভাঙ্গার জন্য জাহেদা আমিন চৌধুরীকে অনুরোধ করে বিশ্বিবদ্যালেয়র রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল হুদা। তবে তার অবস্থানে অনড় থাকায় বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসন দিয়াজের মাকে জোর করে চবি মেডিকেল সেন্টারে পাঠিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন অভিযোগ করেন তিনি।
 
জোর করে চবি মেডিকেল সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযাগ অস্বীকার করে চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ  কামরুল হুদা বলেন, এরআগেও তিনি বঙ্গবন্ধু চত্বরে অবস্থান নিয়ে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। তাই আজকেও অসুস্থ হয়ে যাবেন চিন্তা করে উনাকে  মেডিকল সেন্টারে পাঠিয়েছি।
 
চবি মেডিকেল থেকে ফিরে ফের দুপুর ১২টা থেকে তিনটা পযর্ন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দিয়াজ হত্যার বিচার চাই শিরোনামে একটি ব্যানার ও কাফনের কাপড় পরে অবস্থান নেন। এসময় উনার মা (দিয়াজের নানু) তাকে নিতে আসেলও তিনি যাননি।পরবর্তীতে শহীদ মিনারে তিন ঘণ্টা অবস্থানের পরে পুনরায় বঙ্গবন্ধু চত্বরে অবস্থান নিলে  সেখান থেকে তার পরিচিতরা তাকে কৌশলে বুঝিয়ে বাসায় নিয়ে যান।
 
উল্লেখ, গত বছরের ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে ২৪ নভেম্বর আদালতে একটি মামলা দায়ের করে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। 
 
ইত্তেফাক/আরকেজি