বঙ্গোপসাগরের প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকত। ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার স্পটগুলো। গত ১০ বছরে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙনের কবল থেকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষায় দু’বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষা ও উন্নয়ন’ প্রকল্প হাতে নিলেও তা আজও বাস্তবায়ন শুরু হয়নি।
পটুয়াখালীর সর্বদক্ষিণে কলাপাড়া উপজেলার বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা প্রকৃতির এক অপূর্ব লীলাভূমি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য অবলোকন করা যায় এই সৈকতে। তাই কুয়াকাটায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন চোখে পড়ার মতো। ১৯৯৮ সালে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণার পর সারাবিশ্বের পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কুয়াকাটা। বিনিয়োগকারীরাও হোটেল-মোটেল নির্মাণ করে কুয়াকাটাকে সৌন্দর্যের নগরী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু সাগরের অব্যাহত ভাঙনের ফলে সমুদ্র সৈকত ছোট হয়ে আসছে, সাগরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সৈকত লাগায়ো সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
কুয়াকাটার সৈকত ঘেঁষা নারকেল বাগান, তাল বাগান ও জাতীয় উদ্যানের ঝাউ বাগান পর্যটকদের আকৃষ্ট করে তুলতো। সরেজমিনে দেখা যায়, ম্যানগ্রোভ বনের আকর্ষণীয় এই স্থানগুলো ভেঙে যাচ্ছে। জোয়ারের সময় উত্তাল সাগরের বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রহমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, কুয়াকাটা এখন যেভাবে ভাঙছে তাতে এলাকার লোকজনসহ বিনিয়োগকারীরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
কুয়াকাটা পৌর মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা জানান, সরকার কুয়াকাটা নিয়ে ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিলেও সবার আগে প্রয়োজন কুয়াকাটা সৈকত ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া। তা না হলে উন্নয়ন টিকসই হবে না, উন্নয়নও স্থবির হয়ে পড়বে।
উপকূলীয় বনবিভাগ পটুয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের কাছ আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে সৈকত ঘেঁষা ১০ হাজার হেক্টর ভূমির ওপর ঝাউ বাগান গড়ে তোলা হয়। কুয়াকাটায় বনের আয়তন প্রায় দুই হাজার ১৬৫ একর। তবে ২০০৭ সালে সিডরের পর থেকে ভাঙনের মুখে পড়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। প্রতিবছর অন্তত ১০০ একর বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। গত ১০ বছরে কুয়াকাটা সংরক্ষিত বনের ১১৩৫ দশমিক ৮০ একর বনাঞ্চল সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে ‘কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষা ও উন্নয়ন’ শীর্ষক নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। ভাঙনের ভয়াবহতা দেখে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। মন্ত্রী কুয়াকাটা সৈকত নতুন করে যাতে না ভাঙে, সেজন্য সৈকতের ভাঙন রোধ করার পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান। কিন্তু কুয়াকাটা ভাঙন রোধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ইত্তেফাক/আনিসুর
