তারেক রহমানের তৎকালীন রাজনৈতিক কার্যালয় রাজধানীর বনানীর হাওয়া ভবন ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের তৎকালীন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সরকারি বাসভবনে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্র হয়। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী আবু হেনা মো. ইউসুফের দেয়া জবানবন্দির আলোকে মঙ্গলবার যুক্তিতর্কে এ কথা তুলে ধনের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি (পিপি) এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান। তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মঙ্গলবার ১৫তম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। মামলার কার্যক্রম আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। আদালতের আদেশে বলা হয়, আগামী ৫ ও ৬ ডিসেম্বর মামলার কার্যক্রম যথারীতি চলবে।
অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তিতর্কে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী আবু হেনা মো. ইউসুফ পুলিশের (সিআইডি) তৎকালীন পরিদর্শক। রাষ্ট্রপক্ষের এ সাক্ষী রমনা বটমূলে হামলা মামলার তদন্ত কাজে নিয়োজিত ছিলেন। জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানকে গ্রেফতারের পর তাকে রমনা বটমূলে হামলা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদে আনা হয়। তখন মুফতি হান্নান জিজ্ঞাসাবাদে রমনা বটমূলে গ্রেনেড হামলা, দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রেনেড হামলাসহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার কথা ইউসুফের কাছে স্বীকার করেন। তখনও মুফতি হান্নানকে ২১ আগস্ট মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি। ২১ আগস্ট ঘটনায় মুফতি হান্নানের স্বীকারের বিষয় তৎকালীন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খোদা বখস চৌধুরী, বিশেষ পুলিশ সুপার মুন্সী আতিকুর রহমান ও রুহল আমীনকে অবহিত করলে তারা তাতে গুরুত্ব দেয়নি বরং ২১ আগস্ট মামলা নিয়ে বিরত থাকতে বলা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে বলেন, সাক্ষী আবু হেনা মো. ইউসুফ তার সাক্ষ্যে মুফতি হান্নানকে তার জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে ২১ আগস্ট হামলায় ১০ আসামির সম্পৃক্ততা বিষয় তুলে ধরেন। ১০ আসামি হলেন- আবদুস সালাম পিন্টু, খোদা বখস চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি হান্নান, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, আবু জান্দাল,মুন্সি আতিকুর রহমান, রুহুল আমীন, তারেক রহমান ও মাওলানা তাজউদ্দিন।
সাক্ষী ইউসুফকে মুফতি হান্নান জানায়, তারেক রহমান ২১ আগস্ট হামলা বাস্তবায়নে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। সে আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর তাদের সহায়তা দেন। মুফতি হান্নানকে অন্য মামলায় জিজ্ঞাসাবাদে ২১ আগস্ট হামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবহিত করলে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা খোদা বকস চৌধুরী, মুন্সি আতিক ও রুহুল আমীন তাতে গুরুত্ব না দেয়া তারেক-বাবর কর্তৃক সে সহায়তারই অংশ বলে যুক্তি পেশ করেন সৈয়দ রেজাউর।
যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষে ৩৮ তম সাক্ষী থেকে ৬২ তম সাক্ষী পর্যন্ত জবানবন্দির অংশ বিশেষ উপস্থাপন করা হয়। সোমবার মামলার এজাহারকারী ও রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী মতিঝিল থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর শরীফ ফারুক আহমেদসহ রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম ৩৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দির অংশ বিশেষ তুলে ধরা হয়েছিল।
প্রধান কৌঁসুলিকে যুক্তিতর্ক পেশে আরও সহায়তা করেছেন আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা। অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল সোবহান তরফদারসহ অন্যান্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই
