প্রকল্প গ্রহণের ৫৭ বছর পর আজ ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুতের জগতে প্রবেশ করলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নিজের হাতে পারমাণবিক চুল্লি বসানোর জন্য প্রথম কংক্রিট ঢালাই কাজের (ফার্স্ট কংক্রিট পোরিং বা এফসিপি) উদ্বোধন করেন।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশনের রীতি অনুযায়ী এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমানবিক বিদ্যুতের জগতে প্রবেশ করলো। চুক্তি অনুযায়ী এফসিপি উদ্বোধনের দিন হতে ৬৩ মাসের মধ্যে এই প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হবে।
বর্তমানে পৃথিবীর ৩১টি দেশে ৪৩৭টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। আজকে এই উদ্বোধনের পর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ৩২তম দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত হলো বাংলাদেশ। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কংক্রিট ঢালাইয়ের স্থান ঘুরে দেখেন।
প্রকল্পের পটভূমি: ১৯৬০ সালে পাকিস্তান আমলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই উদ্যোগের প্রেক্ষিতে ১৯৬২ হতে ১৯৬৮ সালের মধ্যে পদ্মা নদীর তীরে ঈশ্বরদীর রূপপুরকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দুই দফা সম্ভাব্যতা যাচাই হলেও অর্থের যোগান না থাকায় প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়।IMG0
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সুপারিশ করে। তৎকালীন পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম এ ওয়াজেদ মিঞার উপদেশনায় প্রকল্প বাস্তবায়নে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ নিউক্লিয়ার পাওয়ার একশন প্লানের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আবারো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ স্তিমিত হয়ে যায়।
২০০৮ সালের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়। এর ভিত্তিতে রাশিয়ার সঙ্গে ‘সমঝোতা স্মারক’ ও ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়। ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০১১ সালের ২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে রাশিয়ান ফেডারেশন ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে প্রকল্প নির্মাণে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ইত্তেফাক/এমআর
