প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন কম্বোডিয়া সফরকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন, আইসিটি, মৎস্য, কৃষি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকা ও নমপেনের মধ্যে মোট ১১টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৩ ডিসেম্বর নমপেনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। এই সফর এশীয় দুইটি দেশের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, এই প্রস্তাবিত সফর খাদ্য, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও আইসিটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে যথেষ্ট অবদান রাখবে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রাও যোগ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন কম্বোডিয়া সফর বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মাহমুদ আলী বলেন, এই সফরকালে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককালে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন সেক্টরে সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে একটি ব্যবসায় সংলাপে অংশ নেয়ার ফাঁকে কম্বোডিয়ার রাজা নরোদম সিহামনি, সিনেট প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় সংসদের সভাপতির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং কম্বোডিয়ার সাবেক রাজা নরোদম সিহানুকের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সফরকালে দুই দেশ নিজ নিজ দেশের জাতির পিতার নামে তাদের দেশের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করবে।
তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ঢাকার কূটনৈতিক অঞ্চল ‘বারিধারা পার্ক রোড’-এর নামকরণ হবে সাবেক রাজা নরোদম সিহানুকের নামে এবং নমপেনের একটি সড়কের নাম হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীরা কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে আগামী ৪ ডিসেম্বর এক নৈশভোজে অংশ নেবেন।
এই সফরকালে যে ১১টি চুক্তি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে, সেগুলো হচ্ছে- বেসরকারি বিমান চলাচল চুক্তি, জয়েন্ট ট্রেড কাউন্সিল গঠন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, শ্রম ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ খাত সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, পর্যটন খাত এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্মৃতিস্তম্ভ এবং স্মৃতি চিহ্ন সংরক্ষণে সহযোগিতা, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার বিষয়ক সমঝোতা স্মারক, বিনিয়োগ প্রসারে সমঝোতা স্মারক, উভয় দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এবং রয়্যাল একাডেমি অব কম্বোডিয়ারের মধ্যে একাডেমিক পর্যায়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আইসিটি ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) নির্বাহী পরিচালক প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন। এই সফরে একটি বৌদ্ধ প্রতিনিধিদল ও একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও থাকবে। বাসস
ইত্তেফাক/কেকে
