গৌরীপুরে যুবলীগের সম্মেলন পণ্ড নিয়ে নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:১৫
 
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে ইউএনও'র বাসাসহ পাঁচ স্থানে পেট্রোলবোমা হামলা, মঞ্চে আগুন, শহরে ১৪৪ধারা জারির ঘটনায় চলছে স্থানীয় নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। 
 
এ ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. সানাউল হক, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক তপন সাহা, সদস্য সচিব আব্দুর রউফ মোস্তাকীম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন খান শুক্রবার গৌরীপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে যৌথভাবে লিখিত বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নাজিম নাজিম উদ্দিন আহমেদকে দায়ী করেন। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে পৌর শহরে বিভিন্ন স্থানে জারিকৃত ১৪৪ ধারা ওইদিন রাত ১১টায় প্রত্যাহার করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও মর্জিনা আক্তার। 
 
যুবলীগ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, বহু নাটকীয়তা শেষে দীর্ঘদিন পর বৃহস্পতিবার উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় সম্মেলন বানচালের উদ্দেশ্যে ওই দিন ভোর রাতে ইউএনও বাসাসহ শহরের বিভিন্নস্থানে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। যুবলীগের দীর্ঘদিনের কাংখিত সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক তা সংসদ সদস্য কখনো চাননি। এরআগে তিনি তার পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করতে বিভিন্ন কৌশলে সম্মেলন বানচালের পাঁয়তারা করে আসছিলেন। তাই সম্মেলনে ভোটে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারবে না বিধায় ঘটনারদিন প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ১৪৪ধারা জারি করিয়ে তা বানচাল করেন। এ সংবাদ সম্মেলনে তারা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় মানববন্ধন, অবরোধ, হরতালসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করবেন তারা। 
 
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রবীণ আওয়ামী রাজনীতিবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহমেদ জানান, আমি প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে স্বচ্ছভাবে সুনামের সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে আসছি। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। সম্প্রতি স্থানীয় একটি রাজনৈতিক কুচক্রী মহল আমার দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমার নামে এসব মিথ্যা অপবাদ দেওয়া তারই বহিঃপ্রকাশ। 
 
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিনি যুবলীগের সম্মেলন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়ার পক্ষে ছিলেন। এজন্য সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিকে আর্থিক ও সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। সম্মেলনে আমার কোন পছন্দের প্রার্থী ছিল না। আমার একমাত্র পছন্দের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিল নাতি মোফাজ্জল হোসেন খান। ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে আমি কোন প্রকার প্রভাব খাটায়নি। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছিল। 
 
গৌরীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, যুবলীগের সম্মেলন বানচালে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কোন ইন্ধন নেই। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় যুবলীগের সম্মেলন আপাতত স্থগিত করেছেন জেলা যুবলীগের নেতারা। এমনতো নয় যে এ সম্মেলন আর অনুষ্ঠিত হবেনা। এজন্য যুবলীগের স্থানীয় একাংশের নেতারা একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্যকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে শহরে বাজে স্লোগান দিয়ে মিছিলের পর কুশপুত্তলিকা দাহ করতে পারেনা।
 
ইউএনও মর্জিনা আক্তার জানান, আমি কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নয় শুধু মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওইদিন ১৪৪ধারা জারি করেছিলাম। 
 
গৌরীপুর থানার ওসি জানান, ইউএনও’র বাসায় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্রহরী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। 
 
ইত্তেফাক/আরকেজি