খুলনার স্টার জুটমিলের প্রকল্প প্রধানের ওপর যুবলীগ নেতার হামলা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:০২
 
খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ব স্টার জুটমিল লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রকল্প প্রধান) আহসান কবীরের ওপর হামলা চালিয়েছে এক যুবলীগ নেতা। আজ রবিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে প্রকল্প প্রধানের অফিস কক্ষেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধর, চায়ের কাপ ভাংচুর এবং গালিগালাজ করা হয়। এমনকি এ ঘটনায় কোথাও অভিযোগ করলে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রকল্প প্রধান নিজেই বাদি হয়ে স্থানীয় থানায় লিখিত এজাহার দাখিল (জিডি) করেছেন। 
 
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা জেলা পরিষদ সদস্য মোল্লা আকরাম হোসেন, স্থানীয় সেনহাটি ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোল্লা আশরাফ হোসেন, স্টার জুটমিল সিবিএ সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান ও মো. বেলায়েত হোসেনসহ কয়েকজন স্টার জুটমিল লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক আহসান কবীরের কক্ষে বসে তার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় অফিস পিয়নের বাধা ডিঙ্গিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা গাজী জাকির হোসেন (মোল্লা আকরাম হোসেনের সহযোগী ও মোটর সাইকেল চালক) সেখানে প্রবেশ করে টেবিলের ওপর থাকা চায়ের কাপ ছুড়ে ফেলে দেয় এবং গালিগালাজ করতে থাকে। এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে প্রকল্প প্রধানের গলা চেপে ধরে ‘আজ তোকে শেষ করে ফেলবো’ বলে শরীরিকভাবে আঘাত করে। আরও বলে, ‘এখানে আমাদের কথামত সবকিছু চলবে, আমরা যা বলবো তুই সেভাবেই সবকিছু করবি, কোন নিয়ম-কানুন চলবে না, সরকারি কোন নিয়মের তোয়াক্কা আমরা করি না’। এমনকি যাওয়ার সময় এ ঘটনা কাউকে জানালে বা থানায় কোন অভিযোগ করলে জীবনে শেষ করে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে যায় বলেও এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন। 
 
প্রকল্প প্রধান আহসান কবীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আকরাম হোসেন আগে পদ্মা ডিপোর মাধ্যমে মিলে তেল সরবরাহের ক্যারিং ঠিকাদারি করতেন। কিন্তু প্রতি চালানে ১শ’ থেকে দেড়শ’ লিটার করে তেল কম হত। যে কারণে তিনি সেটি বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার দেন। যদিও ওই টেন্ডারও তিনি পান। কিন্তু এখন আর তেল কম দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এ কারণেই তিনি তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। ওই ঘটনার জের ধরেই তার লোক দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। 
 
জুটমিল সিবিএ সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নানও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সিবিএ মিটিং করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা গাজী জাকির হোসেন বলেন, ব্যবসায়িক বিষয়ে আলাপ করতে গেলে প্রকল্প প্রধান তার কাছে ঘুষ দাবি করেন। এ নিয়ে হাতাহাতি হয়েছে। 
 
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আকরাম হোসেন। তিনি বলেন, গাজী জাকির প্রকল্প প্রধানকে মারধর করেনি, তবে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। এছাড়া মিলে তেল কম দেওয়ার বিষয়টি বানোয়াট বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 
 
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
 
ইত্তেফাক/আনিসুর