মিয়ানমারে ‘রোহিঙ্গা’ না বলার ব্যাখ্যা দিলেন পোপ

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৮:৫৬
 
বিশ্বজুড়ে আলোচনার মাঝে পোপ ফ্রান্সিস নিজেই ব্যাখ্যা দিলেন কেন মিয়ানমারে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি তিনি। বাংলাদেশ সফর শেষে ইতালি ফেরার পথে বিমানে সংবাদকর্মীদের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে পোপ জানান, সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসন চান বলেই রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেননি। ভ্যাটিকান মুখপত্র ক্রাস্ক নাউ-এর এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
 
খ্রিস্টান ধর্মের রোমান ক্যাথলিক শাখার প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব না হলেও বিশ্বে তার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। নতুন করে রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যেই গত সপ্তাহে মিয়ানমার সফরে যান পোপ ফ্রান্সিস। আশা করা হচ্ছিল, তিনি ওই সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে কড়া বার্তা দেবেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও পোপকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সোচ্চার হতে আহবান জানায়। কিন্তু তিনি সেখানে রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি।
 
রোহিঙ্গা শব্দটির ব্যবহার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পোপ বলেন, ভ্যাটিকান থেকে বিভিন্ন সময় আমি রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয়েই তাদের কথা বলেছি। এমন নয় যে, বাংলাদেশে গিয়ে আমি প্রথম রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করলাম। একজন সাংবাদিক পোপের কাছে জানতে চান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহারে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে কিনা? জবাবে পোপ বলেন, মিয়ানমার সফরে বেশ কিছু একান্ত বৈঠক হয়েছে। এ বৈঠকগুলোর মূল্য রয়েছে। তিনি বলেন, আগেই রোহিঙ্গা শব্দ উচ্চারণ করলে হয়তো মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এসব বৈঠকের পথ বন্ধ করে দিতো। আমার উদ্দেশ্য ছিল যথার্থ বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া। কারোর মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেওয়াটা আমার পছন্দ নয়। তবে আমি খুশি যে, সংলাপের পথে যেতে পেরেছি। বার্তা পৌঁছানোটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
 
যদিও পোপ ফ্রান্সিসের সফরের আগেই রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ না করতে মিয়ানমারের কার্ডিনাল আর্চবিশপ চার্লস মোং বো তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের একটা জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করে না। তাদের কাছে রোহিঙ্গারা ‘অবৈধ বাঙালি’। পোপ রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কথা বললে দেশটিতে বসবাসরত সংখ্যালঘু ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ওপর নিপীড়ন হতে পারে এমন আশঙ্কায় তাকে রোহিঙ্গা শব্দ উচ্চারণ না করতে আহবান জানানো হয়। যদিও এরপর বাংলাদেশে তিনি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তাদের জন্য সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার সময় আমি কেঁদেছি, এই কান্না লুকানোর চেষ্টা করেছি, তারাও তখন কাঁদছিল।
 
বিমানে আলাপকালে পোপ ফ্রান্সিস পরমাণু যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে সতর্ক করে বলেন, পরমাণু অস্ত্রের মজুদ মানবসভ্যতার ধ্বংসের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
 
ইত্তেফাক/এমআর