ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি বলেছে, দেশে ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজ করার কাজ কয়েক বছর আগে শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট অনেকের অনীহা ও অনাগ্রহের কারণে তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। ভূমি ব্যবস্থাপনাকে পুরোপুরি ডিজিটাইজ করা সম্ভব হলে এ খাতে দুর্নীতির সুযোগ কমবে। গতকাল রবিবার টিআইবি’র কার্যালয়ে ‘নাগরিক সেবায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার :ভূমিকা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ মন্তব্য করেন।
টিআইবি’র গবেষণায় তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের কাছে সরকারি, বাণিজ্যিক ও তথ্য সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত ও সহজলভ্য করতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) একটি ব্যাপক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণার আওতাভুক্ত গ্রামাঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ খানা ২০১৬ সালে ইউডিসি থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ করেছে এবং এ সব সেবাগ্রহীতার ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ সার্বিকভাবে ইউডিসি’র সেবায় সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে। ২০১৩-১০১৫ সালে ৪ কোটি ৫০ লাখ সেবাগ্রহীতা ইউডিসি থেকে সরাসরি সেবা গ্রহণ করেছে।
ইউডিসিতে ডিজিটাল সেবা প্রচলনের পর জমির পর্চা উত্তোলনের আবেদন ও পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি সংযোগ হ্রাস পাওয়ায় নিয়মবহির্ভূত অর্থ লেনদেনের ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে। স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে ইউডিসি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশসহ ১১ দফা সুপারিশ পেশ করে টিআইবি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা খাতটি পুরো ডিজিটাইজ না হওয়ার কারণ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা এ খাতটি পুরোপুরি ডিজিটাল হোক তা চান না। কারণ পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে গেলে এ খাতে দুর্নীতি অনেক কমে আসবে। ফলে এসব কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দুর্নীতির পথ বন্ধ হয়ে যাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ইউডিসিতে ভূমি ব্যবস্থা ডিজিটাইজ হয়েছে সেখানে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম ছাড়াই সেবাগ্রহীতারা সেবা নিতে পারছেন। অপরদিকে, জেলা পর্যায়ের ভূমি রেকর্ড রুম থেকে জমির পর্চা উত্তোলনের জন্য ৫৬ শতাংশ সেবাগ্রহীতাকে গড়ে ৭৩৭ টাকা করে ঘুষ দিতে হচ্ছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে নাগরিক সেবায় ইউডিসি’র একাধিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাবনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, স্থানীয় পর্যায়ে সেবা সম্পর্কে প্রচারণা ও সেবার পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমে আয় ও মুনাফা বৃদ্ধি; প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগে স্থানীয় প্রান্তিক মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং সব প্রতিষ্ঠানের সেবাসমূহ সম্পূর্ণ ডিজিটাইজড করে বিভিন্ন সেবা সমন্বিতভাবে প্রদানের ব্যবস্থার প্রবর্তনের মাধ্যমে সেবার সহজীকরণের সুযোগ বৃদ্ধি।
সাংবাদিক সম্মেলনে টিআইবি’র উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়েরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/আনিসুর
