৪৪ মাসের বকেয়া বেতন পায়নি বেরোবি'র ৫৮ কর্মকর্তা

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩:৩৬
 
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ৫৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পায়নি। এদের মধ্যে ৭ জন কর্মকর্তা এবং ৫১জন সাধারণ কর্মচারী। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
 
জানা যায়, ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল এই চার মাসের বেতন পেলেও ২০১৩ সালের মে মাস থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মোট ৪৪ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত ঐ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। পরে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে পুনরায় তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে।
 
বেতন-ভাতা বঞ্চিত এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। কেন করেনি এর সুনির্দিষ্ট কোন কারণ তাদেরকে জানানো হয়নি। এ ব্যাপারে তারা কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এবং বর্তমান উপাচার্য, রেজিস্ট্রারের সাথে মৌখিক এবং লিখিতভাবে আবেদন করেও কোন সদুত্তর পায়নি বলে অভিযোগ করেন।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর বলেন, 'যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তাদের নিয়োগ সে সময় অনুমোদন করেনি। একারণে তাদের ঐ সময়ের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।'
 
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল পরিস্থিতি ও বকেয়া বেতন-ভাতার উপর গঠিত কমিটির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে গত ১৮ এপ্রিল ইউজিসির ২৭ তম মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, 'দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা চলমান রয়েছে বিধায় এ মুহূর্তে কোন সিদ্ধান্ত প্রদানের সুযোগ নেই।'
 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল জলীল মিয়ার সময়ে ইউজিসি’র অনুমোদন ছাড়াই ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৩শ' ৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ্যাডহকের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকট দেখা দেয়। এই ৩শ' ৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করে সে সময়ের চলমান সংকট নিরসন করার জন্য  ইউজিসি কর্তৃক ১০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে ২৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলেও বাদ পড়ে যায় এই ৫৮ জন।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) রফিকুল ইসলাম বলেন, 'একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নিকট বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের আবেদন করেও জানতে পারিনি ঠিক কি কারণে আমাদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে না। কারণ জানার জন্য গত ৩১ অক্টোবর রেজিস্ট্রার বরাবর তথ্য প্রাপ্তির আবেদন করেও এর কোন সদুত্তর পাইনি।'
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, 'এই ঘটনাটি আমার আমলের ঘটনা নয়। এ বিষয়ে আমি কিছ্ইু অবগত না। তাই বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে আমি কিছুই বলতে পারছি না।'
 
ইত্তেফাক/জামান