রাজাপুরে ভিক্ষাবৃত্তি থামছে না

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:১৮
 
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই কোন উদ্যোগ। সরকার ২০১৮ সালের মধ্যে দেশে সকল ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সে প্রেক্ষিতে সরাসরি, ভিডিও কনফারেন্সে ও পত্র যোগাযোগের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন , উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকারগুলোতে নির্দেশনা প্রেরণ করেছে। সরকারের হিসেব মতে দেশে প্রায় ২ লক্ষ ভিক্ষুক রয়েছে যাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিক্ষুকমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
 
সাম্প্রতিক সময়ে রাজাপুর উপজেলার ভিক্ষুকদলকে দেখা যায়- মসজিদের নামাজের পর, ব্যস্ত রাস্তার ফুটপাতে, পরীক্ষার হলের সামনে। সাধারণত মৌসুমি ভিক্ষুক, নিয়মিত ভিক্ষুক, শখের ভিক্ষুক, অলস ভবঘুরে, প্রতারক ভিক্ষুক, মহিলা ভিক্ষুক, হিজড়া জনগোষ্ঠী, মানসিকব্যাধিগ্রস্ত এবং শারীরিকভাবে অত্যন্ত নাজুক শ্রেণির চরম দারিদ্রগ্রস্ত মানুষেরা এ ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িত। আবার অনেকেই বিভিন্ন সত্য-মিথ্যা অজুহাতে সাহায্য চায়, যা ভিক্ষার আরেকটা পদ্ধতি। দিবসভিত্তিক ভিক্ষুক আমদানি হয় উপজেলা সদরের বাইরে থেকে। তবে, গ্রাম এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তির প্রকোপ ১০-১৫ বছর আগের তুলনায় নেই বললেই চলে। এদের প্রকোপ মূলত উপজেলা শহর এলাকাতেই দেখা যায়।
 
ভিক্ষা আইনত ও ধর্মমতে অবৈধ না হলেও এর অস্তিত্ব সমাজের জন্য বিষফোড়া। রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতির দৃশ্যমানটাকে ব্যাহত করে, বিশেষ করে বিদেশীদের কাছে অত্যন্ত ভুল বার্তা প্রেরণ করে। খালি চোখেই বোঝা যায়, দেশের ২ লাখ প্রকৃত অপ্রকৃত ভিক্ষুককে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার সঙ্গতি আমাদের অর্থনীতির থাকা সত্ত্বেও রাজাপুর উপজেলায় নেই এর কোন কার্যক্রম। জাতি হিসেবে হাত পেতে ভিক্ষা নেয়ার পরিস্থিতি থেকে আমরা বেশ আগেই বেরিয়ে এসেছি। এবার ব্যক্তিগত ভিক্ষাবৃত্তি বিদায়ের পালা। ভিক্ষাবৃত্তি নামের বিষফোড়া দূর করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সদিচ্ছা ও জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় সহযোগিতাই যথেষ্ট।
 
রাজাপুর উপজেলার ভিক্ষাবৃত্তি ধনী-গরীবের ব্যাপক ব্যবধান নির্দেশ করে, যদিও বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন হতে পারে। এই দৃশ্যমান ভিক্ষুকের উৎপাত উপজেলা তথা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ব্যাপারে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করে। তাই উপজেলায় ভিক্ষাবৃত্তি নিরুৎসাহকরণে ও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে উপজেলা প্রশাসন ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে বলে উপজেলার সচেতন মহল আশা করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা বেগম পারুল জানান, উপজেলার ভিক্ষুকদের তালিকা তৈরি কওে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
 
ইত্তেফাক/জামান