রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) ছাত্রলীগের হামলায় পাঁচ ছাত্রী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য আইএইচটি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ছাত্রদের গতকাল বুধবার দুপুর একটার মধ্যে এবং ছাত্রীদের বেলা তিনটার মধ্যে হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বহিরাগতসহ ছাত্রলীগের নেতাদের উত্পাতের প্রতিবাদে ও নিরাপত্তার দাবিতে ছাত্রীরা বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের অফিসের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা। ছাত্রলীগের একটি অংশও তাদের পাশে ছিল।
এসময় ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক তুহিনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ছাত্রলীগের সঙ্গে বহিরাগতরাও অংশ নিয়েছে বলে জানা যায়। এসময় ছাত্রীদের পাশে থাকা ছাত্রলীগের এক কর্মীও আহত হয়েছে। হামলায় আহত ছাত্রীরা হলেন- ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের রুপা খাতুন, একই বর্ষের নাজনিন আক্তার ও তৃতীয় বর্ষের মিম আক্তার এবং ল্যাব বিভাগের প্রথম বর্ষের মোহনা খাতুন ও আফরিন শারমিন। তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে।
ছাত্রলীগ কর্মী নাদিরা অভিযোগে করে বলেন, ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক তুহিনসহ তার অনুসারীরা ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন, এমনকি যৌন হয়রানি করতেন। এমন আচরণের কারণে গত ৩ নভেম্বর ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা একটি কর্মসূচিতে উপস্থিত হননি। এজন্য কয়দিন আগে দুই নারী কর্মীকে থাপ্পড় পর্যন্ত মারা হয়। এর প্রতিবাদে ছাত্রীরা বুধবার অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন।
তবে ছাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইএইচটি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন। ছাত্রীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে জাহিদ বলেন, ছাত্রী হোস্টেলে সন্ধ্যা ৬টার আগে সবার ঢুকে যাওয়ার কথা। কিন্তু রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত তারা বাইরে থাকেন। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে কয়েকদিন আগে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই ছাত্রীরা তাদের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে পাল্টা অভিযোগ করতে যান।
আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন দাবি নিয়ে ছাত্রীরা আমার কাছে এসেছিল। দাবি মানার আশ্বাস দিয়ে ছাত্রীদের হলে পাঠানো হয়। কিন্তু হলের সামনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর তাত্ক্ষণিক একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য আইএইচটি ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকবে বলেও জানান অধ্যক্ষ। নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, হামলার সময় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
চবিতে সংঘর্ষে ছাত্রলীগের দুইজন আহত
চবি সংবাদদাতা জানান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষে দুই ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছে। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহাজালাল ও শাহ আমানত হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন: হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের দীন ইসলাম। তিনি বগিভিত্তিক গ্রুপ সিক্সটি নাইনের কর্মী বলে পরিচিত। অন্যজন সংস্কৃত বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মাসুম মিয়া। তিনি সিএফসি’র কমী। সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা মুনছুর আলম বলেন, আমাদের এক কর্মীকে বিনা কারণে মারধর করা হয়েছে। তবে সিএফসি গ্রুপের নেতা রেজাউল হক রুবেল বলেন, জুনিয়রদের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝির কারণে সামান্য ঝামেলা হয়েছে। প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ইত্তেফাক/নূহু
