বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের পঞ্চম আসরের এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে জয়ের জন্য ১৬৮ রানের টার্গেট দিল খুলনা টাইটান্স।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের একমাত্র এলিমিনেটর ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেন রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ব্যাট হাতে সাবধানী শুরু খুলনার দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল ক্লিঞ্জারের। তিন ওভার শেষে মাত্র ১৪ রান যোগ করেন তারা। এরমধ্যে প্রথম ও তৃতীয় ওভার বল করে মাত্র ৪ রান দেন মাশরাফি।
তবে চতুর্থ ওভারের শেষ বলে এই দুই ওপেনারকে বিচ্ছিন্ন করেন রংপুরের অফ-স্পিনার সোহাগ গাজী। ৩টি চারে ১৬ বলে ১৫ রান করা শান্তকে নিজের বলেই ক্যাচ নেন গাজী। এরপর ক্রিজে গিয়ে মারমুখী মেজাজেই শুরু করেছিলেন তরুন আফিফ হোসেন। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ১টি করে চার ও ছক্কায় ৯ বলে ১১ রান করে শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গার প্রথম শিকার হন আফিফ।
আফিফের বিদায়ে উইকেটে আসে খুলনার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মালিঙ্গার বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়া প্রথম দুই বলে ছক্কা ও চার হাকাঁন রিয়াদ। এতে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় খুলনার অধিনায়কের। তাই পরের ওভারেও মারমুখী মেজাজেই ছিলেন তিনি। পরের ওভারে রংপুরের বাঁ-হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলামের দ্বিতীয় বলে ছক্কা ও তৃতীয় ডেলিভারিতে বাউন্ডারি মারেন রিয়াদ। কিন্তু ছক্কা ও চার হজমের পরের ডেলিভারিতে রিয়াদকে বিদায় দেন নাজমুল ইসলাম। ২টি করে চার ও ছক্কায় মাত্র ৬ বলে ২০ রান করেন রিয়াদ।
দলীয় ৫৬ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে রিয়াদের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন ক্লিঞ্জার ও আরিফুল হক। দুজনে উইকেট বাঁচিয়ে খেলার পরিকল্পনা করেন তারা। তাই ৭ ওভার শেষে যেখানে ৩ উইকেটে রান ছিল ৫৭ রান, সেখানে ১১ ওভার শেষে ৩ উইকেটে রান হয় ৭৬। ওপেনার হিসেবে নেমে ১১ ওভার ক্রিজে থেকে ২২ বল মোকাবেলা করে মাত্র ১৫ রান করতে সক্ষম হন ক্লিঞ্জার।
তবে ১২তম ওভারে থেমে যায় তার ধীর গতির ইনিংস। নামের পাশে ২১ রান রেখে রংপুরের ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় রবি বোপারার ইর্য়রকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরেন ক্লিঞ্জার। দলীয় ৮২ রানে ক্লিনজারের বিদায়ের পর আরিফুলের ৩০ বলে ২৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই খেলোয়াড় নিকোলাস পুরানের ২২ বলে ২৮ ও কালোর্স ব্র্যাথওয়েটের মাত্র ৯ বলে অপরাজিত ২৫ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৭ রানের লড়াকু স্কোর পায় খুলনা টাইটান্স। ব্র্যাথওয়েটের ইনিংসে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। পুরান ২টি চার ও ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান। রংপুরের মালিঙ্গা ২টি, গাজী-নাজমুল-রুবেল-বোপারা ১টি করে উইকেট নেন।
ইত্তেফাক/ইউবি
