এলিমিনেটরেই শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরে খুলনা টাইটান্সের মিশন। মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল ক্রিস গেইলের মারকাটারি ব্যাটিংয়ে রংপুরের কাছে আট উইকেটে হেরেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। বিপিএলের আগের আসরেও প্লে-অফ খেলেছিল খুলনা। তুলনামূলক খর্ব শক্তির দল নিয়েও মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে টানা দুই ম্যাচ হেরে বিদায় নিয়েছিল টুর্নামেন্ট থেকে। এবারও ধারাবাহিক অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সেরা চারে উঠে আসে খুলনা। মাহেলা জয়াবর্ধনের কোচিংয়ে এক ঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার নিয়ে গড়া দলটা বাদ পড়লো রংপুরের কাছে হেরে।
এমন বিদায়ে কিছুটা হতাশা থাকলেও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ টুর্নামেন্ট জুড়ে দলের পারফরম্যান্সে খুশি। গতকাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণ একটা দল ছিল। সবমিলিয়ে আমাদের দলের ব্যালেন্সটা খারাপ ছিল না। শুরুতে আমি খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম আমরা ফাইনাল খেলবো। দুর্ভাগ্যবশত হয়নি। তারপরও যদি দেখি শান্ত-আফিফ ওরা বেশ কিছু ভালো ইনিংস খেলেছে। আমাদের ফিল্ডিং খুব ভালো ছিল। সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছে। মাঠে সবার চেষ্টা খুব ভালো ছিল। টিমের কম্বিনেশনও আমার কাছে ভালো লাগছিল। সবমিলিয়ে যদি বলেন তাদের নিয়ে আমি অনেক খুশি।’
গেইল-মাশরাফি-ম্যাককালামদের নিয়ে গড়া রংপুর অনেক অভিজ্ঞ দল। এলিমিনেটর ম্যাচের চাপটাই তবে কি নিতে পারেনি তারুণ্যের খুলনা? মাহমুদউল্লাহ বলেন, অত চাপ ছিল ম্যাচে। তিনি বলেন, ‘অনেক চাপের ম্যাচ ছিল না। আমরা অভ্যস্ত এই ধরনের ক্রিকেট খেলতে খেলতে। যেটা বললাম, সব সময় কিছু না কিছুতো চাপ থাকে, এমন এলিমিনেটর ম্যাচে। দুর্ভাগ্যবশত আজকে (গতকাল) ভালো করতে পারিনি।’
ব্যাটিং ভালো করলেও বোলিংটা পছন্দসই হয়নি অধিনায়কের। তাছাড়া গেইলের মতো কেউ খেললে কিছুই করার থাকে না মনে করেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ব্যাটিং বিভাগ খুব ভালো করেছে, বোলিং বিভাগে হয়তো সেরাটা বের হয়নি। আসলে গেইল যেদিন ঝড় তোলে, সেদিন বোলারদের কিছুই করার থাকে না। তার প্রমাণ আমরা আজকে (গতকাল) পেলাম।’
টানা দ্বিতীয় বছর বিপিএলের ফাইনালে যেতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। অধিনায়ক হিসেবে সর্বশেষ ২০১৫ সালে বরিশাল বুলসের হয়ে ফাইনাল খেলেছিলেন তিনি। ট্রফি জয়ের মঞ্চে যেতে না পারার হতাশা রয়েছে তার কণ্ঠে। গতকাল ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘অবশ্যই হতাশার। সবাই চায় অন্তত ফাইনাল পর্যন্ত যেতে। হয়নি এখন এটা নিয়ে বসে থেকে লাভ নেই। আশায় থাকতে হবে পরের বছরে এমন সুযোগ আসলে সেটা কাজে লাগানোর। চেষ্টা করবো আগামী বছর নিজের ভালোগুলো দেওয়ার।’
ব্যাটিংয়ের পর জয়ের আশা ছিল খুলনা শিবিরেও। স্কোরটাও ভালো ছিল। কিন্তু বোলিংটা ক্লিক না করায় হেরেছে খুলনা। মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘১৬৭ ভালো স্কোর। আমার মনে হয়, জোফরা যখন আসলো, রাহিকে কিংবা স্পিনারদের যখন আনলাম, তখন কোন কিছুই ক্লিক করেনি। তারপরও আমরা বলবো পুরো টুর্নামেন্টে আমরা যে ধরনের ক্রিকেট খেলেছি। হয়তো দুর্ভাগ্যবশত আজকে (গতকাল) আমাদের বোলিং বিভাগ ক্লিক করতে পারেনি। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্ট বিচারে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি।’
ইত্তেফাক/কেআই
