অন্যায়-অবিচারের সংস্কৃতি রোধকল্পে রোম স্ট্যাচুট এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের স্বপক্ষে বাংলাদেশ তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আই সি সি) এর সদস্য রাষ্ট্রসমূহের ১৬তম অধিবেশনে নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত গত ৭ ডিসেম্বর এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। ২৩টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত আই সি সি-এর শীর্ষ উপদেষ্টা পর্ষদ 'ব্যুরো'-তে এশিয়া-প্রশান্ত গ্রুপে জাপান ও ফিলিস্তিন-এর সাথে বাংলাদেশকে নির্বাচিত করায় সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রদূত। হেগের বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিবেশনে রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের চলমান বিচার প্রক্রিয়া রোম স্স্ট্যাচুট এর নীতির পরিপূরক। সদস্য রাষ্ট্র সমূহ জাতীয় আইনের বৈচিত্র্যের সাথে সঙ্গতি বজায় রেখে আই সি সি-এর নিয়ম-নীতিসমূহের প্রচারের মাধ্যমে তা জাতীয় পর্যায়ে কাজে লাগিয়ে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিচারিক কাজকে সুসংহত করা যায় সে বিষয়ে বাংলাদেশ যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করে।
বাংলাদেশ নারী নির্যাতন, লিঙ্গ বৈষম্য ও যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বিচারিক সফলতার অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশসমূহের সাথে বিনিময়ের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সকল ধরনের আগ্রাসন ও হানাহানি বন্ধে আই সি সি-এর ভূমিকাকে আরো জোরালো করার আহ্বান জানান।
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে চলমান জাতিগত নিধনের ভয়াবহতার প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাষ্ট্রদূত বেলাল জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সসম্মানে এবং নিরাপত্তার সাথে স্বদেশে ফেরত যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার সরকারের সাথে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বলে অধিবেশনকে অবহিত করেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সুশীল সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গাদের আবেদনের প্রতি ইঙ্গিত করে রাষ্ট্রদূত বেলাল এই নৃশংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার প্রত্যাবর্তনে আস্থা সৃষ্টিরও আহ্বান জানান।
রোম স্ট্যাচুট’র ১৬তম সদস্য রাষ্ট্রপক্ষীয় অধিবেশনে আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টের ১২৩ সদস্য রাষ্ট্রই অংশগ্রহণ করছে। এছাড়াও ব্যাপক সংখ্যক সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং এনজিও প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছে।
ইত্তেফাক/এমআই
