রিজাল ব্যাংককে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চাই :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:৪৯

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, অর্থ চুরির পর থেকে ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংককে টাকা ফেরতের ব্যাপারে বলা হয়েছে। প্রথমে তারা আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে গড়িমসি শুরু করে। তাই এখন শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। রিজাল ব্যাংককে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চাই। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর শিশু একাডেমিতে বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির এক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনশেষে তিনি এ কথা বলেন। সমিতির ২০তম আন্তর্জাতিক দ্বিবার্ষিক সম্মেলন এবং বার্ষিক সাধারণ সভার এবারের মূল প্রতিপাদ্য ‘সমুদ্র অর্থনীতি:বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি’র চারটি অ্যাকাউন্টে যায়। ব্যাংকটির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় বদলে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে (জুয়া খেলার জায়গা) চলে যায় বেশির ভাগ অর্থ। পরে ফিলিপাইনের সিনেট শুনানির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এক কোটি ৫২ লাখ ডলার ফেরত আনে। রিজাল ব্যাংক থেকে কাঙ্ক্ষিত সময়ে টাকা ফেরত না আসায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা রয়েছে বলে জানা যায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদ সম্পর্কে আমরা এখনও অন্ধকারে। নিজেদের সম্পদের হিসেব নিজেদের কাছে থাকতে হবে। বিশাল সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা এবং সম্পদ অনুসন্ধান ও সংগ্রহে সরকার জোর দিয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সেলিমা খাতুন বলেন, যে দেশ সমুদ্রকে যত বেশি ব্যবহার করতে পেরেছে সে দেশ তার অর্থনীতিকে তত বেশি এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এফেয়ার্স ইউনিট’র সচিব রিয়ার এডমিরাল (অব.) মো. খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের আধার বঙ্গোপসাগর। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুত্ ও অন্যান্য জ্বালানির চাহিদা মেটাতে বঙ্গোপসাগরের জলরাশি ও এর তলদেশে অবস্থিত বিভিন্ন সমুদ্র সম্পদ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। গ্যাস ব্লকের অনুসন্ধান প্রক্রিয়াও চলমান পর্যায়ে। ১০ ও ১১ নম্বর ব্লক ইজারা পাওয়া কোম্পানির তথ্য মতে সেখানে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে ভারী খনিজেরও সন্ধান পাওয়া গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন র্যাংগস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আমানউল্লা চৌধুরী, এসিআই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ এইচ আনসারী, ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নিমাই চন্দ্র সাহা, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. আনন্দ কুমার সাহা, প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক খান হাবিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম এবং সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তপন কুমার দে।

ইত্তেফাক/নূহু