বিএনপি ভোগবিলাস ও ক্ষমতা দখলে ব্যস্ত ছিল : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৩১
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যশোরের ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’-এর শুভ উদ্বোধন করেছেন। এ উপলক্ষে যশোরের আইটি পার্ক মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আইটি খাতের উদ্যোক্তা এবং বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। 
 
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতা দখল ও ভোগবিলাসে ব্যস্ত ছিল। ১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে জনগণকে প্রযুক্তির সেবায় এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। শুধু যশোর নয়, ওই অঞ্চলের ১৩ জেলার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। এতে মেধা ও জ্ঞাননির্ভর অর্থনৈতির চাকা সচল হবে। 
IMG0
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করার চেষ্টা করছিলেন, তখন তাকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। আমি পিতা-মাতা-ভাই হারিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ হারিয়েছে তার সম্ভাবনা ও ভবিষ্যত। হত্যা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষমতা বসিয়েছিল। তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে তারা দেশে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করারে সুযোগ করে দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাদের কোনো অবদান ছিল না। তারা অবদান রাখতে পারেনি। রাখতে চায়নি। তারা চেয়েছিল বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে। কিন্তু জনগণ সেই সুযোগ দেয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী দল ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। কারণ যারা সৃষ্টি করে, তারা কখনও তার সৃষ্টিকে ধ্বংস করতে পারে না। কিন্তু যারা সৃষ্টির বিরুদ্ধে থাকে, তারা ধ্বংস করতে পারে। বাংলাদেশ প্রথমে ২১ ও পরে ৮ বছর ধ্বংসের কব্জায় পড়ে গিয়েছিল।’ 
IMG1
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। বিশাল জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তন হয়। বিএনপি ক্ষমতায় আসে। তারা আর উদ্যোগ নেয়নি। তারা যে নির্ধারিত জায়গায় দখল করে হাউজিং করেনি, এজন্য শুকরিয়া। 
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতা দখল ও ভোগবিলাসে ব্যস্ত ছিল। ১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে জনগণকে প্রযুক্তির সেবায় এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তি জ্ঞাননির্ভির করে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়। আমি নিজে কম্পিউটার শিখেছি ছেলে জয়ের কাছ থেকে। তার কাছ থেকে প্রযুক্তি বিষয়ে অনেক কিছু শিখেছি। পরামর্শ নিয়েছি। ২০০৯ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেছি। এখন আর কেউ ডিজিটাল নিয়ে ব্যঙ্গ করতে পারে না। ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে সরকার।’ 
IMG2
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অপরদিকে যশোর থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা সফটওয়ার টেকনোলজি পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা খাতুন, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নাজিফা তাসনিম শেফা, যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্র ধীমান আল হামি, আইটি প্রফেশনাল অনএয়ার ইন্টারন্যাশনাল সিইও শাহীন আজাদ, আমরা নেটওয়ার্কের এমডি সৈয়দ ফরহাদ আহমেদ ও জেলা প্রশাসক। 
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, মো. মনিরুল ইসলাম, রণজিৎ কুমার রায় ও স্বপন ভট্টাচার্য্য, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
 
ইত্তেফাক/ইউবি