ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের বিষয়ে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আজ রবিবার বলেন, এই সিটির মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য আজ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইসিকে চিঠি দিয়েছে। কমিশনের হাতে ৯০দিন সময় আছে, নির্বাচনের ৪৫ দিন আগেই তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ ব্যাপারে কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেনি। দু-এক দিনের মধ্যে কমিশনে এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড এ নির্বাচনে কোনো বাধার সৃষ্টি করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। কারণ নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের নির্বাচন করার জন্যও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। এখন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে মেয়র নির্বাচনের সঙ্গে এগুলো করবে, না আলাদা করবে। তবে যখনই নির্বাচন হোক কমিশনের প্রস্তুতি রয়েছে।
এদিকে নির্বাচন ভবনে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এক সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নূরুল হুদা নির্বাচনে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কমিশন এ ব্যাপারে কোনো আপোষ করবে না।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। যখন আমরা কোনো দায়িত্ব পালন করি তখন আর কোনো পক্ষ থাকে না। আমাদের হাতে যে আইন আছে, সেই আইনে প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্ধারিত। যদি কেউ সেই নির্ধারিত দায়িত্বের ব্যত্যয় করে তাহলে আইনের মাধ্যমেই তার ব্যবস্থা নেব। কমিশন এ ব্যাপারে এতটুকু আপোষ করবে না।
সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি বলেন, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি কেউ দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় ঘটান, যদি দায়িত্ব পালন না করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে গাফিলতি করেন, তাহলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচন অবাধ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর। নির্বাচন কর্মকর্তারা আপনাদের সাহায্য, সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। এর বাইরে কোনো কিছু নেই। একজন ভোটার ভোট দিতে যেতে পারবেন। কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন না। যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে পারবেন এবং ভোট দিয়ে সে আবার নিরাপদে বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। এর মধ্যে সে কোথাও বাধার সম্মুখীন হবেন না। অবাধে যেতে পারবেন কেউ বাধা দেবে না। এ ব্যবস্থা আপনাদের করতে হবে।
তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তাতে ইসি খুব খুশি। কমিশনের লক্ষ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া। নির্বাচনে আপনাদের যে ভূমিকা তার সফল বাস্তবায়ন হবে -এটা প্রত্যাশা করি। নির্বাচন অবাধ গ্রহণযোগ্য এবং স্বচ্ছ হবে।
সিইসি বলেন, কেন্দ্রে কোনো রকম ঝামেলা হবে না।কোনো রকমের হাঙ্গামা হবে না। ভোট দিতে কাউকে বাধা দেয়া যাবে না। এ ব্যবস্থা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।বাসস
ইত্তেফাক/কেকে
