হলফনামায় তথ্য গোপন

সালাউদ্দিনের এমপি পদ বাতিল চেয়ে ইসিকে দুদকের চিঠি

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০:২৩
ময়মনসিংহ-৫ আসনের জাতীয় পার্টি-জাপার এমপি সালাউদ্দিন আহম্মেদ মুক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক’র সচিব মো. শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে মুক্তি নির্বাচন কমিশনে হলফনামার মাধ্যমে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে সম্পদ কম দেখিয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি নির্বাচন কমিশন সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। 
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দুদকের চিঠি আমরা পেয়েছি। আইন-কানুন ঘেটে দেখবো আমাদের কি করণীয় আছে। এরপর তা কমিশনে উপস্থাপন করবো। দুদকের চিঠির বিষয়ে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। 
 
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মাধ্যমে ৮টি তথ্য জমা দেন এমপি সালাউদ্দিন আহমেদ মুক্তি। সেখানে তিনি তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর মিলে মোট সাড়ে চার লাখ টাকার সম্পত্তি আছে বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু দুদক বলছে নির্বাচন কমিশনে সম্পদের হিসাব দেয়ার আগে গত ৩০ জুন ২০১৩ সালে উপকর অঞ্চল সার্কেল-৬এ (মুক্তাগাছা) স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখান ৫৬ লাখ ৪ হাজার টাকা। তাছাড়া তাঁর বাবার কাছ থেকে পাওয়া তিন লাখ টাকার সম্পদের তথ্যও নির্বাচন কমিশন এবং আয়কর বিবরণীতে দেননি তিনি; দুদকের ভাষায়,-এ ধরনের অসত্য হলফনামা দাখিল নৈতিকতার পরিপন্থী। তাই নির্বাচন কমিশনের সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
 
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইন (আরপিও) অনুযায়ী, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ভোটের আগে এ তথ্য প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে। আর ভোটের পর কোনো তথ্যের অমিল পেলে এমপি পদ খারিজ হতে পারে। এ অপরাধে সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে তা স্পিকারের দপ্তরে পাঠানোর ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের। এরপর সংসদ সচিবালয় ওই আসন শূন্য ঘোষণা করতে পারে। এর আগে দল থেকে বহিষ্কার হয়ে এমপি পদ হারিয়েছিলেন সরকারের প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। 
 
গত ২৯ অক্টোবর দুদক তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্যয় নোটিশ জারি করেছিল। এর আগে সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এর পরপরই দুদকের উপ-পরিচালক শেখ আবদুস সালামকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। আর দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। ময়মনসিংহ-৫ আসনের সংসদ সদস্যর সালাইদ্দিন আহমেদ চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা পরিষদ মাঠে নিজের দুই মেয়েকে রাজকীয়ভাবে বিয়ে দিয়ে আলোচনায় আসেন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই