‘দঙ্গল’ তারকা জাইরা ওয়াসিম শনিবার মধ্য আকাশে বিমানের ফ্লাইটে শ্লীলতাহানির শিকার হন। রবিবার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওর মাধ্যমে জাইরা তাঁর শ্লীলতাহানির অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন। সেখানে তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরপর ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভারতের নারী অধিকারকর্মী, মানবাধিকার কর্মীরা। মহারাষ্ট্র পুলিশের কাছে জাইরার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই গ্রেফতার হলেন অভিযুক্ত শ্লীলতাহানিকারী বিকাশ সচদেব। বিকাশ পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
জাইরাকে তার ভিডিওতে বলতে দেখা যায়, ‘আমি দিল্লি থেকে মুম্বাই যাচ্ছিলাম। পাশে বসা মধ্যবয়স্ক এক যাত্রী আমার সেই দুই ঘণ্টার যাত্রাকে অসহনীয় করে তোলে। আমি তার কাণ্ড ভিডিওতে রেকর্ড করে রাখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ফ্লাইটের অভ্যন্তরে আলো কম থাকায় পরিষ্কার ফুটেজ পাইনি।’
এদিকে বিকাশের পরিবার জানিয়েছে, বিকাশ দিল্লিতে তাঁর এক আত্মীয়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর সেখান থেকে ভিস্তারার ওই ফ্লাইটে মুম্বাইয়ে ফিরছিলেন। অভিযুক্ত বিকাশ সচদেবের স্ত্রী দিব্যার দাবি, তাঁর স্বামী নির্দোষ, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী সব সময় বিমানের বিজনেস ক্লাসে যাতায়াত করেন। কখনো তার নামে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। আমরা ভালোবেসে বিয়ে করেছি। ১৬ বছর ধরে তার সঙ্গে সংসার করছি। তিনি কখনোই এমন কাজ করতে পারেন না। আমার স্বামী নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি এই ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।’
এদিকে বিকাশের এক বন্ধু কুলদীপ ভারগাভও বিকাশের পক্ষে কথা বলছেন। কুলদীপের মতে, আত্মীয়ের মৃত্যুতে এমনিতেই বিকাশের মন খুব খারাপ ছিল। তারওপর শেষকৃত্যের আচার অনুষ্ঠান সেরে তিনি আরও ক্লান্ত ছিলেন। প্রচণ্ড ক্লান্তিতে তিনি ফ্লাইটের ভেতর ঘুমিয়ে পড়েন। বিমানবালাকে তিনি বলেন, তাকে যেন খাওয়ার জন্যও ডাকা না হয়। এদিকে ফ্লাইট ল্যান্ড করার কিছুক্ষণ আগে সেই অভিনেত্রী (জাইরা ওয়াসিম) চেঁচিয়ে ওঠে। চিৎকার করে সে আমার বন্ধুকে পা নামাতে বলে। আমার বন্ধু তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছেন যে সে ইচ্ছা করে পা লাগায়নি। বিকাশ নির্দোষ। নারীদের হয়রানি করার কোনো ইতিহাস তার নেই। পুলিশ চাইলে তা খতিয়ে দেখতে পারে।
ইত্তেফাক/ রেজা
