সব ফরম্যাটেই দুই বছর বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করেছেন। মাশরাফির ইনজুরিতে এর মাঝে মাঝেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আর টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ থেকেই আছেন অধিনায়ক। ফলে নতুনত্ব কিছু থাকার কথা নয়। তারপরও ব্যাপারটা যখন টেস্ট অধিনায়কত্ব ফিরে পাওয়া, তখন রোমাঞ্চ একটা থাকেই।
সাকিব আল হাসান সবসময়ের মতোই রোমাঞ্চটা আড়াল করে ‘নতুন’ এই দায়িত্বের চ্যালেঞ্জটাকে বড় করে দেখতে চাইলেন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বললেন, দল এখন ভালো করছে। এখান থেকে আরো ভালো করার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন তিনি, ‘টেস্টে গত কিছুদিন আমরা ভালোই করেছি। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জিতলাম, অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের সঙ্গে জিতলাম এখানে। এই জায়গা থেকে কতটা ভালো করা যায়, সেই চেষ্টাই থাকবে।’
সাকিবের এবারের শুরুটা অবশ্য একটু সহজ হচ্ছে। দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে শুরু করতে হবে। সাকিব অবশ্য এটাকে সহজ ভাবতে রাজী নন। তিনি বলছিলেন, ‘প্রতিটি টুর্নামেন্ট বা সিরিজই কঠিন। সেটা দেশে হোক বা বাইরে। হয়ত দেশে একটু স্বস্তি বোধ করি আমরা। বিদেশে যেহেতু সাফল্য নেই, সেহেতু আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। একই সঙ্গে এটাও সুযোগ ভালো কিছু করার। কোনো না কোনো কিছু তো কেউ না কেউ শুরু করবে। যদি ভালো শুরু হয়, তাহলে খারাপ কী! যদিও কাজটা কঠিন। কিন্তু আমাদের যে দল আছে, আমরা যেভাবে খেলছি, অনেক কিছু করা সম্ভব।’
এই দফায় সাকিব ডেপুটি হিসেবে পাচ্ছেন অধিনায়ক হিসেবে প্রশংসিত মাহমুদউল্লাহকে। তিনি বলছেন, এটা তার কাজকে সহজ করে দেবে, ‘আমরা বেশ কয়েকজনই আছি, যারা দলের নেতা। এবং যে কোনো সিদ্ধান্তই আমরা একসঙ্গে মিলেই নেই। কেউ অধিনায়ক থাক বা না থাক, সেটা ব্যাপার নয় যখন আমরা মাঠে খেলতে নামি। সবার সাহায্যই দরকার হবে। আর রিয়াদ ভাই তো কয়েক বছর ধরেই বিপিএলে ভালো অধিনায়কত্ব করছে। নেতৃত্বগুণ তার ভেতর অনেক আগে থেকেই আছে। আমার কাছে মনে হয়, আমার জন্য কাজটি সহজ হবে।’
আরেকটা জায়গায় সাকিব মনে করছেন, তার কাজটা সহজ হবে— এবার যখন অধিনায়কত্ব পেলেন, তখন দলে পারফরমার আগের চেয়ে অনেক বেশি, ‘অবশ্যই কাজটা সহজ হবে। এখন বেশিরভাগ ক্রিকেটাররাই প্রায় সবসময় পারফর্ম করছে। ক্রিকেটাররা যখন পারফর্ম করে, অধিনায়কের ওরকম কোনো কাজই থাকবে না। আশা করি সবাই মিলে ভালো করবে। সবাই মিলে ভালো করলেই দল ভালো করবে।’
এই সময়ে দল যেমন বদলে গেছে, অনেকে মনে করছেন সাকিবও অনেক বদলে গেছেন। যেমন দলের দীর্ঘদিন ধরে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা খালেদ মাহমুদ সুজন বলছিলেন, ‘ওর অনেক পরিবর্তন এসেছে, এটা বিশাল। ছয় বছরে অনেক কিছুই চেঞ্জ এসেছে। ক্রিকেটার হিসেবে ওকে অন্যভাবেই দেখি। ও অনেক কিছু জানে, গেম সেন্স আছে। সিচুয়েশন বুঝে ভালো। এখন বয়সও হয়েছে, আগের চেয়ে অনেক পরিণত। আমার মনে হয়, তার অধিনায়কত্ব দিয়ে, বাংলাদেশ ক্রিকেটে সে একটা পরিবর্তন আনবে। অনেক পরিবর্তন এসেছে, এটা বিশাল। ছয় বছরে অনেক কিছুই চেঞ্জ এসেছে। ক্রিকেটার হিসেবে ওকে অন্যভাবেই দেখি। ও অনেক কিছু জানে, গেম সেন্স আছে। সিচুয়েশন বুঝে ভালো। এখন বয়সও হয়েছে, আগের চেয়ে অনেক পরিণত। আমার মনে হয়, তার অধিনায়কত্ব দিয়ে, বাংলাদেশ ক্রিকেটে সে একটা পরিবর্তন আনবে।’
ইত্তেফাক/কেআই
