যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে ‘সন্ত্রাসী আক্রমণের চেষ্টা’র অভিযোগে আটক আকায়েদ উল্লাহ’কে ‘বাংলাদেশি অভিবাসী’ বলে উল্লেখ করেছে সেদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্দেহভাজন ঐ হামলাকারীর বয়স ২৭ বছর। ২০১১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হককে উদ্ধৃত করে রয়টার্স বলছে, আকায়েদ উল্লাহর বাড়ি চট্টগ্রামে এবং তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। এবছর সেপ্টেম্বরের আট তারিখে তিনি সর্বশেষ বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য নেই পুলিশের কাছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র সারা স্যান্ডার্স জানিয়েছেন, উল্লাহ এফ৪৩ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। এর মানে হলো এফ৪১ ভিসায় দেশটিতে যাওয়া কারো সন্তান তিনি।
IMG0
অন্তত ২১ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, এমন নাগরিকদের ভাই বা বোনদের এফ৪১ ভিসা প্রদান করা হয়। তাৎক্ষনিকভাবে আকায়েদ উল্লাহর মোটিভ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে কিছু জানায়নি মার্কিন পুলিশ। তবে, নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেমস ও’নেইল জানিয়েছেন, উল্লাহ পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে, যা এখনি প্রকাশ করবে না কর্তৃপক্ষ। আইএসের উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না সে বিষয়ে কিছু বলেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সেদেশের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আকায়েদ উল্লাহ ইসলামিক স্টেটের প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণার ভিডিও বিভিন্ন সময় ইন্টারনেটে দেখেছেন বলে তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই প্রমাণ পেয়েছেন। তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আকায়েদ উল্লাহর সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সংযোগ রয়েছে এমন তথ্য কোনো মার্কিন বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে নেই। নিউ ইয়র্ক ট্যাক্সি ও লিমুজিন কমিশন জানিয়েছে, ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আকায়েদ উল্লাহর একটি ব্ল্যাক ক্যাব/লিমুজিন গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল।
IMG1
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শুরুতে ট্যাক্সি ক্যাব চালাতেন তিনি। পরে একটি ইলেকট্রিক কোম্পানিতে চাকরি পান। নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশের কনস্যল জেনারেল শামীম আহসান জানিয়েছেন, ব্রুকলিনে মা, বোন এবং দুই ভাই এর সঙ্গে থাকতেন উল্লাহ। তিনি দেশটির গ্রীনকার্ডধারী। ম্যানহাটনের এই হামলার নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাস হামলাকারীর বিচার চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বিবিসি।
ইত্তেফাক/সেতু
