ব্যাংকের সংখ্যা বাড়লে সমস্যা নেই :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:৫২

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা আরো বাড়লে কোনো সমস্যা নেই। কারণ দেশের সব জনগণকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে হলে আরো ব্যাংকের প্রয়োজন রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (ইডিসি) স্থাপনের জন্য সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে ৫৭টি তফসিলি ব্যাংক রয়েছে। তারপরও সরকার আরো তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সর্বশেষ অনুমোদিত ব্যাংকগুলোর অবস্থা ভালো নয়, এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার বিধিবিধান রয়েছে। সেটিকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। যেসব ব্যাংক একীভূত হতে চায়, নিয়মানুযায়ী তারা একীভূত হতে পারবে। একটি ব্যবসায়িক গ্রুপ দেশের কয়েকটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরেও রয়েছে। একটি পার্টি মার্কেট থেকে বড় অংকের ঋণ নিয়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. ফরাসউদ্দিন, অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মাসুদ আহমেদ, ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম এ শহীদুল হক, প্রকল্প পরিচালক ও অর্থমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বৃহত্ চারটি শিল্পখাতের মধ্যম এবং নির্বাহী পর্যায়ে দক্ষ জনবলের অভাবে বিদেশিদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আর এ কারণে দেশ থেকে প্রতি বছর ৫ হাজার কোটি টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। মূল্যবান এ বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানোর পাশাপাশি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে  দেশেই দক্ষ জনবল তৈরি কোন বিকল্প নেই। আমরা নিজেরাই দক্ষতা অর্জন করতে পারলে তা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরো গতিশীল করবে।

অনুষ্ঠানে মো. ফরাসউদ্দিন বলেন, সরকার দেশে দক্ষ জনবল তৈরিতে মনোনিবেশ করেছে। এটা অত্যন্ত ভাল কথা। উদ্যোগটি আরো  আগে নেওয়া উচিত ছিল। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যমান সম্পদ নিয়েই ৫০ শতাংশ বেশি উপার্জন করা সম্ভব। আমাদের দেশে প্রশিক্ষিত লোকের যে অভাব রয়েছে আশা করি সরকারের এ উদ্যোগ সে অভাব পূরণে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের সংখ্যা ৫ কোটি। এ লোকগুলোকে যদি আমরা প্রযুক্তি বিষয়ক শিক্ষা দিতে পারি তাহলে এরা মানব সম্পদে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্বাহী এবং মধ্যম পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরির প্রশিক্ষণের জন্য ২২ কোটি ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকার দুটি পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রকল্প পরিচালক এবং ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ইত্তেফাক/নূহু